
মাদারীপুর প্রতিনিধি : মাদারীপুরে ইটভাটায় কর্মরত শ্রমিক দম্পতির১১বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টায় মামলা হয়েছে। পরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আদালতে তোলা হলে গ্রেফতার আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
অভিযুক্ত মামুন নড়িয়াল খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার চতুরখালি এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার মহিষেরচর এলাকার এসএসবি ব্রিকস্ ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করে ১১ বছরের শিশুর মা-বাবা। সপ্তাহখানেক আগে মেয়েটি তার দাদা-দাদির কাছে বেড়াতে খুলনা যায়।
মঙ্গলবার দুপুরের পর গ্রামের বাড়ি থেকে মামুনের সাথে মাদারীপুরে মা-বাবার কাছে আসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয় ওই শিশু। পরে রাতে মামুন মাদারীপুর পৌঁছালে তার ভাড়াকৃত বাসায় আটকে শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা চালায়। ব্যর্থ হলে মেয়েটিকে একটি ঘরে বদ্ধ করে রাখে।
পরিবারের লোকজন মেয়েটিকে অনেক খোঁজাখুঁজির পর বুধবার সকাল ৭টার দিকে মামুনের বাসা থেকে উদ্ধার করে। খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে সদর মডেল থানা পুলিশ শিশুকে ও অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে রাতেই মামুনকে একমাত্র আসামি করে ধর্ষণ চেষ্টা মামলা করে মেয়েটির পরিবার।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অভিযুক্ত মামুনকে আদালতে তোলা হয়। পরে শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. এলিয়াম হোসেন অভিযুক্ত মামুনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিকে এই ঘটনার পর আতঙ্কে আছে মেয়েটি ও তার পরিবার।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় প্রথমে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে ইটভাটা মালিকপক্ষ। মামুনকে ডেকে এনে মারধর করে ছেড়ে দেয়। বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীরা জানলে থানা পুলিশকে অবহিত করে। পরবর্তীতে পুলিশ নেয় আইনি ব্যবস্থা।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, মেয়েটির মা-বাবা দুজনেই একটি ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত। গ্রামের বাড়ি দূরে হওয়ায় মামুনের সাথে মেয়েটিকে আসতে সম্মতি দেয় পরিবার। এই সুযোগে শিশুকে মাদারীপুরে নিয়ে এসে ধর্ষণ চেষ্টা চালায় মামুন। এই ঘটনায় শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় গ্রেফতার মামুনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মেয়েটির পরিবারকে সব ধরনের আইনগত সহযোগিতা করা হবে।