
আগেই সিরিজ হাতছাড়া হয়েছিল। তাই একাদশে জায়গা পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা ছিল বিলাল সামির। কিন্তু সেই অনিশ্চিত বোলারই হয়ে উঠলেন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের দুঃস্বপ্ন। অভিজ্ঞ স্পিনার রশিদ খানের সঙ্গে মিলে তিনি যেন আগুন ঝরালেন আবুধাবির উইকেটে। ফলাফল—একশ রানও করতে পারল না বাংলাদেশ, নিশ্চিত হলো লজ্জাজনক ধবলধোলাই।
শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে আফগানিস্তানের কাছে ২০০ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। বিদেশের মাটিতে এটি বাংলাদেশের অন্যতম করুণ পরাজয়। টস জিতে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৯৩ রান তোলে আফগানিস্তান। জবাবে ২৭.১ ওভার টিকতেই পারে না টাইগারদের ইনিংস—সবাই মিলে মাত্র ৯৩ রানে অলআউট। লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা মোটামুটি হলেও তাড়াতাড়িই ধসে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস। ওপেনার সাইফ হাসান একাই কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন—৫৪ বলে ৪৩ রান করে ফেরেন তিনি। বাকিদের মধ্যে কেউই পৌঁছাতে পারেননি দুই অঙ্কে। নাঈম শেখ ২৪ বলে ৭ রান করে ফিরলে একে একে সাজঘরে ফেরেন শান্ত, হৃদয়, মিরাজ ও শামিম। আফগান বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণে পুরো ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়ে তাসের ঘরের মতো।
আফগানিস্তানের হয়ে বিলাল সামি মাত্র ৩৩ রান খরচায় নিয়েছেন ৫ উইকেট, রশিদ খান পেয়েছেন ৩ উইকেট। তাদের এই জোড়া আঘাতেই কার্যত ধ্বংস হয়ে যায় বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডার। এর আগে আফগান ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান মিলে দলকে এনে দেন শক্ত ভিত। ৯৯ রানের উদ্বোধনী জুটির পর গুরবাজ ৪২ রানে ফেরেন। তবে জাদরান খেলেন ধৈর্যশীল ১১১ বলে ৯৫ রানের ইনিংস। শেষদিকে ঝড় তোলেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবি—মাত্র ৩৭ বলে ৬২ রানে ৫ ছক্কা ও ৪ চারে সাজানো ইনিংসটি শেষ পর্যন্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
শেষ পর্যন্ত ২০০ রানের বিশাল জয়ে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ নিশ্চিত করেছে আফগানিস্তান। অন্যদিকে, আত্মবিশ্বাসহীনতা, অস্থিরতা আর দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিংয়ের খেসারত দিয়ে পুরো সিরিজটাই হতাশায় শেষ করেছে বাংলাদেশ।