
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে বনের গেজেটভুক্ত জমির সাথে একই দাগে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি থাকায় ওই জমি হস্তান্তর, নামজারী ও সরকারি রাজস্ব আদায় কার্যক্রম সাময়ীকভাবে বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশনা বাতিল বা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ১২ টায় শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া বাজার গরুর হাট মাঠে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবী জানানো হয়। ভুক্তভোগী জমির মালিক, নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশন, শ্রীপুর সাহিত্য পরিষদ এবং শ্রীপুর পৌর সচেতন নাগরিক ফোরামের যৌথ আয়োজনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ভুক্তভোগী জমির মালিক এবং শ্রীপুর পৌর সচেতন নাগরিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ১৯২৭ সালের বন আইনের ২০ ধারা মতে বনের গেজেটভুক্ত জমির খাজনা পরিশোধ করে যাচ্ছে বন বিভাগ। খাজনা গ্রহণ করছে রাজস্ব বিভাগ। কিন্তু বনের গেজেটভুক্ত জমির সাথে একই দাগে থাকা জমির মালিকদের খাজনা পরিশোধ করতে পারছে না। অথচ, ওইসব জমির মালিকদের সিএস, এসএ, আরএস, রেকর্ড এবং ২০০৬ সালের ৩ মার্চ জারী করা নামজারী এবং খাজনা পরিশোধকৃত জমির সকল কাগজপত্র রয়েছে তাদের। বন বিভাগ দেওয়ানী আদালতে রেকর্ড সংশোধনী ও বিভিন্ন মামলা দিয়ে জোতদারদের হয়রানি করছে। জমির মালিকেরা একাধিকবার পরিবেশ, বন ও ভূমি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে খাজনা পরিশোধের জন্য আবেদন করলেও এ হয়রানি থেকে মুক্তির জন্য কোনো সমাধান পাচ্ছেন না।
সংবাদ সম্মেলন তিরি আরো বলেন, ২০১১ সালের ১৮ মে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে বনের জমি বাছাই বা চিহ্নিত করে জটিলতা নিরসেনর নির্দেশনা রয়েছে বন বিভাগের কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু বন বিভাগ ও ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারিদের অসৎ উদ্দেশ্যের কারণে মন্ত্রণালয়ের ওই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। এত বন বিভাগ ও জমির মালিকেরা বিভিন্ন ধরেনর জটিলতাসহ ঞযরানিও ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন।
ভুক্তভোগী ও শ্রীপুর সাহিত্য পরিষদের সভাপতি রানা মাসুদ তার বক্তব্য বলেন, ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে সরকারিভাবে সীমানা নির্ধারনের জন্য আবেদন করা হয়। পরে বন বিভাগের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা প্রতিতিনিধিকে সীমানা নির্ধারনের নোটিশ দিলেও তারা বিষয়টি সমাধানে সময় মতো আসেন না। তিনি অভিযোগ করেন বন বিভাগের স্থানীয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তফসিলভুক্ত জমির বিরুদ্ধে দেওয়ানী আদালতে মামলা রুজু করে সীমানা নির্ধারণ স্থগিতের আদেশ চেয়ে আবেদন করেন। এতে সীমানা নির্ধারণ না করায় স্থানীয় জমির মালিকেরা রাজস্ব পরিশোধের জটিলতাসহ জমি ক্রয়-বিক্রয়ে সমস্যা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
অপর ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা ডিগ্রী কলেজের অধ্যাপক এমদাদুল হক বলেন, বনের গেজেটভুক্ত থাকায় নিজেদের মালিকানাধীন জমিতে বাড়িঘর নির্মাণ ও গাছপালা রোপন, অবকাঠামো উন্নয়ন, কলকারখানা স্থাপন করতে পারছে না। বনের জমির সাথে মালিকদের গেজেট সমস্যার সমাধন না করায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ জনগণ ও জমির মালিকেরা। এত সরকারও কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
জনকল্যাণ, ন্যায়বিচার ও সরকারি স্বার্থে গেজেট বাতিল বা প্রত্যাহার করে জমির মালিকদের ভোগ দখল, হস্তান্তর, নামজারী, রাজস্ব পরিশোধসহ যাবতীয় কার্যক্রম চালুর দাবি জানান। বনবিভাগের গেজেট সমস্যার সমাধান না হলে মানববন্ধসহ বৃহত্তর কর্মসূচীর ঘোষনা দেন ভুক্তভোগীরা।