
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মঙ্গলবার দুই হাজারের বেশি দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির দণ্ড মওকুফ বা হ্রাস করেছেন বলে দেশটির বিচার বিভাগ জানিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে জড়িত কেউ এই তালিকায় নেই বলে জানানো হয়েছে।
ইসলামী বিপ্লবের বার্ষিকীর আগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইরানে এই উপলক্ষসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বছরের পর বছর ধরে সর্বোচ্চ নেতা এ ধরনের ক্ষমা প্রদানে সম্মতি দিয়ে আসছেন।
বিচার বিভাগের মিজান অনলাইন ওয়েবসাইট জানিয়েছে, ‘ইসলামী বিপ্লবের নেতা বিচার বিভাগের প্রধানের আবেদনে সাড়া দিয়ে দুই হাজার ১০৮ জন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাজা ক্ষমা, হ্রাস বা রদ করতে সম্মত হয়েছেন।’
তবে তালিকায় ‘সাম্প্রতিক দাঙ্গার আসামি ও দণ্ডপ্রাপ্তরা’ অন্তর্ভুক্ত নন বলে জানিয়েছে সাইটটি। বিচার বিভাগের উপপ্রধান আলি মোজাফফারির উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
ডিসেম্বরের শেষ দিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে দেশব্যাপী সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয় এবং ৮ ও ৯ জানুয়ারি চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে।
তেহরান স্বীকার করেছে, এই অস্থিরতায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও নিরীহ পথচারীসহ তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। সরকার এ সহিংসতাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে আখ্যায়িত করেছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ বলেছে, বিক্ষোভগুলো শুরুতে শান্তিপূর্ণ ছিল, পরে তা ‘বিদেশি উসকানিতে সৃষ্ট দাঙ্গায়’ পরিণত হয়, যেখানে হত্যাকাণ্ড ও ভাঙচুর ঘটে।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো নিহতের সংখ্যা আরো বেশি বলে দাবি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, তারা ছয় হাজার ৯৬৪ জনের মৃত্যুর তথ্য যাচাই করেছে, যাদের বেশির ভাগই বিক্ষোভকারী।