
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-০৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
বুধবার সন্ধ্যায় বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আমেনা প্লাজায় তৃতীয় তলায় জেলা ও উপজেলার সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন লড়াই করেছি। আমাদের অনেক নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াইয়ে এসে পুরনো প্রথা ও কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। জনগণের ভোটের ওপর আস্থা না রেখে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর ভরসা করার প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
তিনি বিশেষভাবে জামায়াত ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, সারাদেশে এবং বাঞ্ছারামপুরেও আমরা এর নানা লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি। অনুপস্থিত ভোটারের নামে ভোট দেওয়া, কালি মুছে আবার ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি, একই ব্যক্তিকে একাধিকবার ভোট দিতে সহায়তা করা এবং পরিকল্পিতভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা চলছে।
জোনায়েদ সাকি বলেন, ভোট ব্যবস্থা বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত। আমরা আগেও আহ্বান জানিয়েছি, এখনও জানাচ্ছি—সব রাজনৈতিক দলকে জনগণের ভোটের ওপর আস্থা রাখতে হবে। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের যেকোনো চেষ্টা বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না।
তিনি আরও বলেন, গত দুই দিন ধরে পরিস্থিতি অবনতির জন্য একটি পরিকল্পিত চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কয়েকজন জামায়াত নেতা ও প্রার্থী প্রকাশ্যে বলেছেন,ভোট ডাকাতি ঠেকাতে কেন্দ্রে কেন্দ্রে বাঁশের লাঠি নিয়ে উপস্থিত হতে হবে। এটি স্পষ্টভাবে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়ার শামিল। এটি নির্বাচন আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।”
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন গণসংহতি আন্দোলনের এই নেতা। তিনি বলেন, প্রিজাইডিং অফিসারদের তালিকা পর্যালোচনা করে আমরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। সেখানে দেখা গেছে, কয়েকজন কর্মকর্তা সরাসরি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত, এমনকি নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রেও তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে বিতর্কিতভাবে অনেক প্রিজাইডিং অফিসারকে বাদ দিয়ে তাদের কাজে যোগ দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রশাসনকে অবশ্যই নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ বাংলাদেশের জনগণ গ্রহণ করবে না।