
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তায় ভেসে উঠা ছোট বড় বিভিন্ন চরাঞ্চলে বেড়েছে আগাম জাতের ভুট্টার চাষ। দফায় দফায় বন্যায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিভিন্ন ধরনের ফসলের চাষাবাদ করে থাকেন চরাঞ্চলের মানুষজন। চরাঞ্চলের মানুষের আয়ের উৎস একমাত্র কৃষিকাজ।
এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে একরময় একর জমিতে লাগিয়েছেন ভুট্টার চাষ। কম খরচ ও পরিচর্যায় ভুট্টার ফলন ভালো হওয়ায় অন্যান্য ফসলের তুলনায় ভুট্টা চাষের আগ্রহ বেড়েছে এসব এলাকায়। এবারে আবহাওয়া আনুকুলে থাকায় ফলন অনেক ভালো হয়েছে। এছাড়া বাজারে ভুট্টার চাহিদা ভালো থাকায় অনেক লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা। জানা যায়, উপজেলায় ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টি ইউনিয়ন তিস্তা নদী দ্বারা বিধস্ত। এ ৩টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলের লোকজন ভেসে উঠা চরাঞ্চলে বিভিন্ন প্রকার রবি ফসলের চাষাবাদ করেছেন। এর মধ্যে ভুট্টার চাষও রয়েছে। ভুট্টার ফলনও অনেক ভালো হয়েছে। এসকল ফসলকে ঘিরে নদী গর্ভে বিলীন হওয়া নিঃস্ব হয়ে যাওয়া হাজার হাজার মানুষের মুখে এখন ফুটে উঠেছে সুখের হাসি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবারে উপজেলায় ভুট্টা চাষের লক্ষ্য মাত্রা ৯’শ ১০ হেক্টর। এ পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ৯’শ হেক্টর। ভুট্টার উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ৫শত ৮৩ মেট্রিক টন।
এছাড়া ভুট্টা চাষে অল্প খরচে বেশি ফলন পাওয়ায় চরাঞ্চলের কৃষকেরা ভুট্টার চাষের দিকে বেশি ঝুঁকছেন বলে জানান।
সরেজমিন উপজেলায় তিস্তা নদী বেষ্টিত চরাঞ্চল গুলোতে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ ও চরাঞ্চলে ভুট্টার সমারোহ যা চোখে পড়ার মতো। ভুট্টা চাষিরা ভুট্টার ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভুট্টার ফলন ভালো হওয়ার কৃষকদের মনে আশার সঞ্চার জাগিয়েছে। তারা জানান, অল্প খরচে বেশি ফলন পাওয়ায় তিস্তার চরাঞ্চলে এবারে বেশি ভুট্টার চাষ হয়েছে। চরাঞ্চলে ইরি ধানের পাশাপাশি ভুট্টা চাষে অধিক ফলন ও দাম ভালো পাওয়া সহ স্থানীয় বাজারে সহজেই ভুট্টা বিক্রির সুবিধা থাকায় খুশি কৃষকেরা।
এদিকে তিস্তা নদীর করাল গ্রাসে আবাদি জমি ও বসতবাড়ি হাড়িয়ে নিঃস্ব হয়েছে হাজার হাজার পরিবার। এই নিঃস্ব পরিবার গুলো বাঁচার তাগিদে তারা বিভিন্ন এলাকায় রিক্সা ভ্যান চালিয়ে জীবীকা নির্বাহ করতেন। কিন্ত তিস্তার নব্যতা হ্রাস পাওয়ায় জেগে উঠেছে ছোট বড় অসংখ্য বালুচর। এসব চরে রবি শস্যের ব্যপক ফলন হয়। বাস্ত হারা সে সকল চাষিরা চাষ করছেন বিভিন্ন ধরনের ফসল। এছাড়া এবছর চরাঞ্চলে বন্যার কারণে বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হলেও ভুট্টা চাষের মাধ্যমে সে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন তারা। বন্যার পানিতে পলি জমে চরাঞ্চলের জমি বেশি উর্বর হওয়ায় ভুট্টা চাষে স্বপ্ন দেখছেন চরাঞ্চলের চাষিরা।
উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের জুয়ানসতরা এলাকার ভুট্টাচাষি নুর ইসলাম জানান, এবারে তিনি প্রায় ৩০ একর জমিতে আগাম ভুট্টার চাষ করেছেন। ভুট্টা ঘরে উঠা পর্যন্ত হবে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা। ভুট্টার ফলন যেভাবে হয়েছে তাতে তিনি প্রায় ৪হাজার ২শত মণের।
বাজারদর ভালো থাকলে ৪২ লাখ টাকার আশা করছেন। তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, বীজ, সার ও কীটনাশক সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম হাতের লাগালে থাকলে দ্বিগুন লাভ হতো বলে জানান তিনি।
এছাড়া বিভিন্ন এলাকার ভুট্টা চাষিদের মধ্যে আবুল হোসেন, রাশেদুল ইসলাম, সামছুল ইসলাম ও ওসমান গনি ছালাম মিয়া সহ আরও অনেকে জানান, ভুট্টা চাষ করে বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার স্বপ্ন দেখছেন তারা। এবারে ভুট্টার বাম্পার ফলনে তাদের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা যায়। মৌসুমে ভুট্টার বাজারদর ভালো থাকলে অনেক লাভবান হওয়ার আশা করছেন তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ মোশারফ হেসেন জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভুট্টার চাষ হয়েছে। এর মধ্যে চরাঞ্চলে বেশির ভাগ ভুট্টার চাষ হয়েছে। কৃষকের হাতে উপযুক্ত সময়ে কৃষি উপকরণ ও পরামর্শ দেয়ায় গত বছরের তুলনায় এবছর ভুট্টার চাষ ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবারে ভুট্টার ফলন অনেক ভালো দেখা যাচ্ছে। মৌসুমে ভুট্টার বাজারদর ভালো থাকলে ভুট্টা চাষিরা অনেক লাভবান হবেন বলে জানান তিনি।