
কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক সাম্প্রতিক ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দেবিদ্বার উপজেলা ০৪ আসনের সম্ভাব্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হাসনাত আবদুল্লাহর আচরণ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, রাজনৈতিক কর্মী ও বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা ডিসি অফিসে এক বৈঠককালে হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে দেবিদ্বার ০৪ আসনের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী, সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মনজুরুল আহসান মুন্সীর সমর্থকদের বাকবিতণ্ডা হয়। ওই সময় হাসনাত আবদুল্লাহের আচরণকে অনেকেই ‘অশালীন ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ বলে অভিযোগ করেছেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয় এবং ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। গত শুক্রবার সৌদি থেকে প্রবাসী বিএনপি নেতা কর্মীরা এ বিষয়ে ব্যাপকভাবে সমালোচনা করেছেন।
গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ওই ঘটনার মাধ্যমে দেবিদ্বার উপজেলাবাসী মর্মাহত । অভিযোগ উঠেছে, তিনি বিভিন্ন সরকারি ও সামাজিক অনুষ্ঠানে সিনিয়র নাগরিক, সাংবাদিকদের তোয়াক্কা না করে কথা বলেন।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও বিতর্ক তৈরি হয়েছে হাসনাত আবদুল্লাহর দলীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে। বিএনপির কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, হাসনাত আবদুল্লাহ ছাতরলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি বিএনপির সাথে ঘনিষ্ঠ তৈরির চেষ্টায় নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন । যদিও এ বিষয়ে হাসনাতকে ফোন করে, কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। তার ব্যয়বহুল প্রচারণা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, “নির্বাচনের জন্য এত অর্থের উৎস কোথায়?”—এই প্রশ্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও চায়ের আড্ডায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
অন্যদিকে, কুমিল্লা টাউন হলসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার বক্তব্য ও আচরণকে ‘নাটকীয়’ আখ্যা দিয়ে কেউ কেউ বলছেন, জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য তিনি পরিকল্পিত অভিনয় করছেন। অভিযোগ রয়েছে, জামায়াতের কিছু অংশের নীরব সমর্থন পাওয়ায় তিনি অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডিসি অফিসে হাসনাত আবদুল্লাহ ও ইঞ্জিনিয়ার মনজুরুল আহসান মুন্সীর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থান দেবিদ্বার উপজেলায় ভবিষ্যতে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তারা আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ আচরণ নির্বাচনী পরিবেশকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিতে পারে!
কুমিল্লার সকল রাজনৈতিক নেতার প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ ও সহনশীল রাজনীতির আহ্বান জানিয়েছেন জেলাবাসী।