
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর উপজেলা-সদরের একাংশ) আসনে স্বাধীনতার পর বিএনপি নিজেদের দলীয় প্রার্থী পেয়েছে। এবার শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা: এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
এর আগে বিগত সবগুলো সংসদীয় নির্বাচনে আসনটিতে ধানের শীষ প্রতীকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য কালিয়াকৈর উপজেলার বাসিন্দা চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী এবং একবার দলের যুগ্ন সম্পাদক গাজীপুর সদর উপজেলা এলাকার অধ্যাপক এম এ মান্নান বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। সরাসরি দলের কোনো প্রার্থী না থাকায় এ আসন থেকে কখনো বিএনপি বিজয় হতে পারেনি।
স্থানীয় বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর এবারই দল শ্রীপুর থেকে প্রার্থী দিয়েছে। ডা: বাচ্চু একজন সজ্জন, নিরহংকারী, সহজ,সরল এবং চিকিৎসক হিসেবে এলাকায় তার ব্যাপক সুনাম রয়েছে। তাকে মনোনয়ন দেওয়ায় দলের নেতাকর্মী, সমর্থকসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষের মাছে উচ্ছ্বাস ও উৎফুল্ল দেখা গেছে। আপামর জনসাধরনের একটি’ই কথা দীর্ঘ ৪৭ বছর পর বিএনপি শ্রীপুর থেকে একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে যিনি সকলের কাছে জনপ্রিয় এবং সজ্জন ব্যাক্তি হিসেবে পরিচিত।
এবার গাজীপুর-৩ আসনে অধ্যাপক ডা: এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু সরাসরি দলীয় প্রার্থী হওয়ায় মাঠের চিত্র বদলেছে। শুরুতে দলের আরো ৮ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও তারা বাচ্চুর ঘোর বিরোধী ছিলেন। দল থেকে বাচ্চুকে মনোনয়ন দেওয়ায় ওইসব মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রকাশ্যে ডা: বাচ্চুর পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দেন। এতে বিএনপির ভেতরে ঐক্যের বার্তা আরও জোরালো হয়েছে বলে স্থানীয় নেতারা মনে করছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা এখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছেন। সব মিলিয়ে স্বাধীনতার পর শ্রীপুর থেকে এবারই প্রথম দলীয় প্রার্থী ফিরে পাওয়ায় এবং এ আসনের রাজনীতিতে নতুন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌরসভার এক গৃহিনী বলেন, আমি আওয়ামীলীগের সমর্থক। কিন্তু আমার বাবু ডেলিভারীর সময় তিনি (ডা: বাচ্চু) আমার সার্বক্ষনিক খোঁজ খবর নিয়েছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎকের কাছে ফোন করে আমার খোঁজ নিয়েছেন। এজন্য তিনি আমার কাছে ভোট না চাইলেও আমার ভোট উনি প্রাপ্য। তাই আমি আওয়ামীলীগ সমর্থক হলেও আমার ভোটটা তাকে দিব।
অপর ভোটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, করোনাকালীন সময়ে আমার করোনা পজেটিভ হওয়ার সাথে সাথে ডা: বাচ্চুর স্যারের সাথে যোগাযোগ করলে সাথে সাথে আমার ফোন রিসিভ করে এবং জানতে চায় কি সহযোগীতা করতে পারি তোমার। আমি করোনা পজেটিভ শুনেই উনার ছোট ভাই চিকিৎসক শরীফকে আমার জন্য সার্বক্ষনিক নিয়োজিত রেখেছে এবং বলে দিয়েছে যত ধরনের পরামর্শ লাগে তাকে ফোন দিবাঅ আমি শরিফকে বলে দিয়েছে। এজন্য আমার ভোট টা আমি তাকে দিব।
শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া এলাকার বাসিন্দা ও বিএনপি কর্মী আজিজুল ইসলাম বলেন, আগের নির্বাচনগুলোতে মনে হইছে অন্য এলাকার জন্য ভাড়া খাটতেছি। অথচ এবার আমরা একেবারে নিজ উপজেলার প্রার্থী পাইছি। এ জন্য আনন্দ আর উৎসাহের শেষ নাই।
দলীয় ঐক্যে জয়ের বিষয়ে আশাবাদী অধ্যাপক ডা: এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। তিনি বলেন, এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত প্রার্থিতা নয়, এটি গাজীপুর-৩ আসনের বিএনপির দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন। বহু বছর পর দল আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, সেটিকে আমি সম্মানের সঙ্গে দেখছি। নেতাকর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের যে সাড়া পাচ্ছি, তাতে আমি আশাবাদী।
এবারের নির্বাচনে গাজীপুর-৩ আসনে অপর প্রার্থীরা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: ইজাদুর রহমান মিলন (ঘোড়া), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তথা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ এহসানুল হক (রিক্সা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলমগীর হোসাইন (হাতপাখা), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) আশিকুল ইসলাম পিয়াল (মই), জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো: নাজিম উদ্দিন (লাঙ্গল) ইসলামী ঐক্যজোটের হাফেজ মাওলানা মুফতি শামীম আহমেদ (মিনার)। তবে ভোটারদের মতে এই সাতজনের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক ডা: এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তথা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ এহসানুল হকের মধ্যে।
গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর উপজেলা-সদরের একাংশ) একটি পৌরসভা এবং দুই উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ রাখ ৬০ হাজার ১৯০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭ জন।