
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি: শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ের গহিনে বন্যহাতির বিচরণভূমিতে অবৈধভাবে সিসি ব্লক তৈরির একটি কারখানার সন্ধান মিলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পোড়াগাঁও ইউনিয়নের দুই ইউপি সদস্য অভিনব কৌশলে পাহাড়ি ঝর্ণা থেকে বালু, পাথর ও নুড়ি উত্তোলন করে সেখানে সিসি ব্লক তৈরি করছেন এবং জেলার বিভিন্ন স্থানে তা বিক্রি করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম সমশ্চুড়া এলাকার ভারত সীমান্তঘেঁষা কোনাবাড়ী বড়খোল নামক দুর্গম পাহাড়ি স্থানে কারখানাটি স্থাপন করা হয়েছে। এলাকাটি গারো পাহাড়ের ভেতরে অবস্থিত এবং এটি বন্যহাতির অবাধ বিচরণক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। মানুষের যাতায়াত কম থাকায় স্থানটি দীর্ঘদিন ধরে বন্যপ্রাণী ও চোরাকারবারিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, পাশের পাহাড়ি ঝিরি ‘রঞ্জনা ঝর্ণা’ থেকে অবৈধভাবে বালু, নুড়ি ও সিঙ্গেল পাথর উত্তোলন করে ওই কারখানায় সিসি ব্লক তৈরি করা হচ্ছিল। গত মাসের শুরু থেকে সেখানে শত শত ব্লক উৎপাদন করা হয়েছে। এতে ঝর্ণার প্রাকৃতিক প্রবাহ ও আশপাশের বনাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি কাছের শালবনের টিলাও ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, পোড়াগাঁও ইউনিয়নের ইউপি সদস্য উমর ফারুক ও নবী হোসেন এই অবৈধ কারখানার সঙ্গে জড়িত। তারা তৈরি করা সিসি ব্লক নালিতাবাড়ীসহ পার্শ্ববর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলা এবং জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন।
এদিকে বন বিভাগের দাবি, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তাদের নিয়মিত টহল না থাকায় আগে বিষয়টি তাদের নজরে আসেনি। পরে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়।
মধুটিলা ফরেস্ট রেঞ্জের বনবিট কর্মকর্তা কাউসার আহম্মেদ সাংবাদিকদের জানান, “এসি ল্যান্ডের নির্দেশে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সেখানে সিসি ব্লক তৈরির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।”
নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আগে থেকে উত্তোলন করে রাখা বালু ও পাথর দিয়ে নিজেদের জায়গায় তারা ব্লক তৈরি করছিলেন বলে দাবি করেছেন। বিষয়টি আইনসিদ্ধ কিনা তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য উমর ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, “নিজের পুকুরপাড় মেরামতের জন্য কিছু ব্লক তৈরি করেছি। যদি এটা বেআইনি হয়, তাহলে যা করার কর্তৃপক্ষ করবে।” তবে পুকুর মেরামতের জন্য বিপুল পরিমাণ ব্লক তৈরির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বর্তমানে উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত দুটি নদীর বালুমহাল বন্ধ থাকায় বালু উত্তোলন ও পরিবহন নিষিদ্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় পাহাড়ি ঝর্ণার বালু ও পাথর সরাসরি বিক্রি করা সম্ভব না হওয়ায় সিসি ব্লক তৈরি করে তা বিক্রির মাধ্যমে খনিজ সম্পদ পাচারের নতুন কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উল্লেখ্য, রঞ্জনা ঝর্ণা থেকে বালু, পাথর বা অন্য কোনো খনিজ সম্পদ উত্তোলনের জন্য সরকারি কোনো অনুমোদন নেই। তাই বিষয়টিকে সম্পূর্ণ অবৈধ দাবি করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।