
চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আট প্রার্থীর মধ্যে পাঁচ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (RPO)-এর ১৭ অনুচ্ছেদের ৪১ ধারা অনুযায়ী কোনো আসনে প্রদত্ত ভোটের এক অষ্টমাংশ ভোট কোনো প্রার্থী না পেলে তার নির্বাচনী জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। সে হিসেবে চট্টগ্রাম-১৪ সংসদীয় আসনে এলডিপির প্রার্থী অধ্যাপক ওমর ফারুক ও বৃহত্তর সুন্নী জোটের বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ সোলাইমান ফারুকী ছাড়া অন্য পাঁচ প্রার্থী মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানতের টাকা সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তাদের এ জামানতের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হবে।
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ভোট গণনা শেষে মোট ১০০টি কেন্দ্রের ফলাফলের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (রিটার্নিং অফিসার) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন। পরদিন শুক্রবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত প্রার্থীর সরকারিভাবে গেজেট প্রকাশ করা হয়।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৩ হাজার ৫১৪ জন। ১০০টি কেন্দ্রে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ৭২৮টি।বাতিল হয়েছে ৪ হাজার ৫৬২টি ভোট। সর্বমোট প্রদত্ত ভোট ১ লাখ ৮৬ হাজার ২৯০টি। ভোটদানের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, জামানত ফিরে পেতে এই আসনটিতে সর্বনিম্ন ২২ হাজার ৭১৬টি ভোটের প্রয়োজন ছিল।
ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জসীম উদ্দিন আহমেদ ধানের শীষ প্রতীকে ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের শরিক দল এলডিপি মনোনীত ছাতা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক ওমর ফারুক পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৪৬৭ ভোট।
অন্য প্রার্থীদের মধ্যে বৃহত্তর সুন্নী জোটের বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মুহাম্মদ সোলাইমান ফারুকী মোমবাতি প্রতীকে পেয়েছেন ২২ হাজার ৯৯২ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল হামিদ হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৫৩৯ ভোট, জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের) মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ বাদশা মিয়া লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ২৯৩ ভোট, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী এইচ.এম ইলিয়াছ আপেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৪৯ ভোট। স্বতন্ত্র দুই প্রার্থীর মধ্যে এডভোকেট মোহাম্মদ মিজানুল হক চৌধুরী ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৬৩০ ভোট এবং শফিকুল ইসলাম রাহী সিআইপি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৬৬৫ ভোট। প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় অধ্যাপক ওমর ফারুক ও মাওলানা সোলাইমান ফারুকী ছাড়া অন্য পাঁচ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
এবিষয়ে চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, “গনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী কোন প্রার্থী সংসদীয় আসনে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের এক অষ্টমাংশ না পেলে তার জামানত সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে। আমরা তালিকা প্রস্তুত করছি, বিধি অনুযায়ী যাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে তাদের জামানতের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হবে।”