
বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি: যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকা আর ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা সবুজ পাহাড়ে ঘেরা দুই জনপদ দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন উত্তাল জামালপুর-১ আসন। ১২টি নির্বাচনের ইতিহাসে আসনটি বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক পালাবদলের সাক্ষী হলেও এবার লড়াইয়ের সমীকরণ কিছুটা ভিন্ন। ভোটারদের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন নদী ভাঙন আর সীমান্ত চোরাচালান রোধে কার প্রতিশ্রুতি সবচেয়ে বেশি কার্যকর হবে?
দুই উপজেলা, দুই পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২৫ হাজার ৮৮২ জন। পরিসংখ্যানে পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটারের সংখ্যা কিছুটা বেশি। নির্বাচনী মাঠে ৫ জন প্রার্থী থাকলেও মূলত ৩ জনের প্রচার-প্রচারণায় জমে উঠেছে মাঠ।
এ আসনে বিএনপির সবচেয়ে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তবে তাকে শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নাজমুল হক সাঈদী এবং সাবেক বিএনপি নেতা ও চারবারের উপজেলা চেয়ারম্যান, বর্তমানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুর রউফ তালুকদার।
প্রচারণার মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। বিএনপির প্রার্থী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এলাকার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ওপর জোর দিয়ে বলেন, জনগণ তাকেই বেছে নেবে যার হাতে দেশ সুরক্ষিত থাকবে এবং নদী ভাঙন রোধসহ বেকার সমস্যার সমাধান হবে।
অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী নাজমুল হক সাঈদী কল্যাণমূলক সমাজ গঠনের ডাক দিয়ে বলেন, সুন্দর সামাজিক ব্যবস্থা গড়ার লক্ষ্যে বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জের মানুষ এবার ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে আস্থা রাখবে।
দীর্ঘ ২৫ বছর জনগণের পাশে থাকার অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আব্দুর রউফ তালুকদার। তিনি মনে করেন, জনগণের রায়ই শেষ পর্যন্ত তার পক্ষেই আসবে।
দেওয়ানগঞ্জের ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের কারণ যমুনার ভাঙন। স্থানীয় ভোটার সোহেল বলেন, নদী ভাঙন রোধে যিনি কার্যকর কর্মসূচি নেবেন, আমরা তাকেই সমর্থন দেব।
আবার বকশীগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বড় সমস্যা। ভোটার মুস্তাইন বিল্লাহ বলেন , সীমান্ত দিয়ে আসা অবৈধ পণ্য ও মাদক যারা রুখতে পারবেন, ভোট তাদের বাকসেই পড়বে।
তরুণ ভোটার জয় দাংগোর চাওয়া দুর্নীতিমুক্ত ও সঠিক দেশ পরিচালনা।