
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, প্রতিটি নির্বাচনে এদেশের জনগণ ভোটের অধিকার পায়নি। দীর্ঘদিন ধরে জনগণ ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। তবে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর যে পরিবর্তন এসেছে, সেটি আজ বাস্তবে রূপ নেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-১৫ আসনের নির্বাচনী প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাই আন্দোলনে এবং ফ্যাসিবাদী শাসনে গত সাড়ে ১৫ বছরে যারা সীমাহীন ত্যাগ স্বীকার করেছে, জীবনের বিনিময়ে আজকে এই নতুন বাংলাদেশ জাতিকে উপহার দিয়েছে—আমি প্রথমে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ তা’আলা তাদের শহীদি মর্যাদা দান করুন।”
তিনি আরও বলেন, “যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে আত্মত্যাগ করেছে—আমি তাদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি এবং তাদের জন্য দোয়া করছি। আল্লাহ তা’আলা যেন তাদেরকে জান্নাতের নেয়ামত দান করেন।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহীদ ও আহতদের বুক চিতিয়ে লড়াইয়ের ফলেই আজকের বাংলাদেশ। তারা যদি সেদিন জীবন না দিতেন, আহত না হতেন—তাহলে আজ ১২ তারিখ ভোট হওয়ার কথা ছিল না। তিনি বলেন, “মহান স্রষ্টার হুকুমেই সারা বিশ্বে সবকিছু পরিচালিত হয়। আমরা কেউ কল্পনাও করতে পারিনি যে ২০২৪ সালে এমন ঘটনা ঘটবে, অথচ সেটাই বাস্তবে রূপ নিয়েছে।”
নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, “আগে যখন নির্বাচন হতো, তখন আমার মতো দলের নেতারা, জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ জেলে ছিলেন। আমিও জেলে ছিলাম। কেউ ৬ মাস বা ৭ মাস আগেও চিন্তা করতে পারেনি যে এমন একটা অবস্থা তৈরি হবে। কিন্তু বাস্তবতা পরিবর্তিত হয়েছে।”
জুলাই বিপ্লবের তাৎপর্য তুলে ধরে জামায়াত আমীর বলেন, জাতি জুলাইকে চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। যারা সম্মান করবে না, তারা অকৃতজ্ঞ হবে। তিনি বলেন, “এত বড় একটা বিপদ, সংকট থেকে আল্লাহ তা’আলা জাতিকে মুক্তি দিয়েছেন। সেই বীরদের প্রতি আমাদের সম্মান দেখাতেই হবে।”
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, চলমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী তাদের নীতি ও ইশতেহার ঘোষণা করেছে এবং জনগণের সামনে তাদের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে। প্রেস ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন জামায়াত আমীর।