
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-নিয়ন্ত্রনাধিন জাতীয় তেল সরবরাহ পাইপ লাইন ফুটো করে গত কয়েক মাস ধরে কয়েকহাজার লিটার তেল চুরির ঘটনা ঘটেছে।
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার হাদিফকির হাট এলাকায় তেলের পাইপ লাইনের উপর অস্থায়ী ঘর তৈরি করে এই চোরাই কাজ চলছিলো। তেল সরবরাহ লাইনে তেলের অতি চাপে চোরাই লাইন ফেটে তেল ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের নজরে আসলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
ছড়িয়ে পড়া তেল স্থানীয় উৎসুক জনতা হাঁড়ি পাতিল কলস বালতি করে যারযার মতো করে তেল সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় সংবাদ কর্মী ও গনমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে
আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে, ঘটনাস্থলে মিরসরাই সহকারী কমিশনার ভুমি আলাউদ্দিন, মিরসরাই থানা প্রশাসন, মিরসরাই ফায়ার স্টেশন ও বিপিসি কর্মকর্তারা উপস্থিত হন।
তারা উপস্থিত হয়ে, ঘটনাস্থল সিল করেদেন এবং নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। ঘটনাস্থল থেকে সাধারণ মানুষেরদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি প্রায় এক মাস আগে হাদির ফকিরহাট এলাকায় ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বিপিসির তেল পাইপলাইনের ওপর একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে তিনি পাইপলাইনে ফুটো করে অবৈধভাবে তেল চুরি করে আসছিলেন।
টিনশেড ঘরটির মালিক নুর জাহান জানান, প্রায় এক মাস পূর্বে খুলনার আমিরুল ইসলাম ঘরটি ভাড়া নেন। ওই ব্যক্তি জানান তিনি মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি কারখানায় চাকরি করেন। কিন্ত তাঁর স্বামী নুরুল আবছার পাইপলাইনে উপর অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ করে ঘরটি ভাড়া দিলেও ভাড়াটিয়ার কোনো ঠিকানা সংরক্ষণ করেন নাই।। নুর জাহান বর্তমানে থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, মাটির প্রায় ১২ ফুট নিচে থাকা পাইপলাইন ফুটো করে তেল চুরি করা হচ্ছিল। ঘটনাস্থল থেকে একটি ড্রিল মেশিন , বেশ কয়েকটি তেলের ড্রাম ও কন্টিনার উদ্ধার করা হয়েছে। এই পাইপলাইনে ফূটো তৈরি পারদর্শী কোন শ্রমিক ছাড়া এই কাজ কেউ করতে পারবে না।
এটি পরিকল্পিত ভাবে করা হয়েছে। পাইপ লাইনে যখন তেল সরবরাহ বন্ধ ছিলো সেই সুযোগে পাইপ লাইন ফুটো করে তেল চুরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই লাইনে কখন তেল সরবরাহ চালু থাকে কখন বন্ধ থাকে এটা কেবল এই লাইনের সাথে সম্পৃক্তরাই জানে। তাই বিপিসির লোকজন বা শ্রমিক এখানে জড়িত।
এ ঘটনায় পাইপলাইনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং কী পরিমাণ তেল চুরি হয়েছে তা নিরূপণে তদন্ত চলছে বিপিসি কর্মকর্তারা।পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার পর মিরসরাই উপজেলা সহকারী কমিশন (ভূমি) আলাউদ্দিন কাদের, মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)- দুই কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে তারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া বক্তব্য দিতে রাজি হননি।