
দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার দেবিদ্বারে ২৭ দিন বয়সী কন্যা শিশুকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর ‘অপহরণ’ অভিযোগের ঘটনায় তদন্ত শেষে নাটকীয় সমাপ্তি ঘটেছে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, এটি কোনো অপহরণ নয়; বরং টাকার বিনিময়ে শিশুকে দত্তক দেওয়ার ঘটনাকে আড়াল করতেই অপহরণের নাটক সাজানো হয়েছিল।
গত ২৭ জানুয়ারি দুপুরে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় চিকিৎসার জন্য আসা এক মাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর তার ২৭ দিন বয়সী কন্যা নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং দৈনিক দিনকাল পত্রিকা সহ বেশ কিছু পত্রিকায়ও সংবাদ প্রকাশিত হয়।
প্রাথমিকভাবে অপহরণের মামলা দায়ের করা হলেও তদন্তে ভিন্ন তথ্য উঠে আসে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, শিশুটির মা স্বেচ্ছায় তাকে অন্য এক নারীর কাছে হস্তান্তর করছেন। পরে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্বপরিকল্পিতভাবে টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে দত্তক দেওয়া হয়েছিল।তবে বিষয়টি পারিবারিকভাবে জটিল হয়ে পড়লে এবং সামাজিকভাবে সমালোচনার আশঙ্কায় অপহরণের অভিযোগ তোলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, গতকাল অপহরণের সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর দত্তক নেওয়া ব্যক্তি মানসিক চাপে রাতেই যোগাযোগ করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেবিদ্বার থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, শিশুটির বয়স অত্যন্ত কম হওয়ায় এবং তার সার্বিক নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ ঘটনায় আপাতত কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।