
চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডায়রিয়া রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১৫ জন রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
গত এক সপ্তাহে দোহাজারী ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ৬৬ জন রোগী ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। এদের মধ্যে ৭০ শতাংশ হলো শিশু রোগী, যাদের বয়স ৫ বছরের নিচে। পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকলে সংকট তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে সচেতন মহলের অভিমত।
দোহাজারী ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে এ্যান্টিবায়েটিক, ডিএনএস স্যালাইন ও খাবার স্যালাইনের সংকট না থাকলেও ৩১ শয্যার অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসক স্বল্পতার কারনে ডায়রিয়ার প্রকোপে বিপাকে পড়েছেন এই হাসপাতালের চিকিৎসকেরা।
হাসপাতালের শয্যা খালি না থাকায় নতুন ভর্তি রোগীদের ঠাঁই হয়েছে মেঝেতে। অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং আবহাওয়া পরিবর্তনের কারনে আচমকা গরমের জন্য ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান চিকিৎসকরা।
এছাড়া ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ার কারণে পানিবাহিত জীবাণুর সংক্রমনের ফলে ডায়রিয়া রোগ হঠাৎ করে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান চিকিৎসকেরা।
দোহাজারী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আর.ওম.ও) ডা. আহমেদ তানজিমুল ইসলাম বলেন, “সিজন পরিবর্তন কারনে ভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার ফলে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। গরম বাড়লে পানির উৎসে জীবাণুর প্রকোপ বাড়ে, যা ডায়রিয়া ছড়ায়। রাস্তাঘাটের অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং নিরাপদ পানির অভাব এর অন্যতম কারন। গরমের কারনে মানুষ বাইরের অনিরাপদ পানি/শরবত নিজে পান করছেন এবং বাচ্চাদের দিচ্ছেন। তাছাড়া ডায়রিয়ার ধরনেও পরিবর্তন হচ্ছে। ডায়রিয়ার সাথে জ্বরও থাকছে। একারণে রোগীর অবস্থার উন্নতি হতে সময় নিচ্ছে। ২ দিনের বদলে ৪ থেকে ৫ দিন লাগছে, এতে বাড়ছে চিকিৎসা খরচ। দোহাজারী হাসপাতাল থেকে এখনো কোন রোগী রেফার করা লাগেনি বা মারা যায়নি। ডায়রিয়া আক্রান্তদের দ্বারা বাকী রোগীরা যাতে আক্রান্ত না হয় সেজন্য ডায়রিয়া রোগীদের আলাদা করে ডায়রিয়া ব্লক করা হয়েছে।”
চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশ্মি চাকমা বলেন, “বর্তমানে চন্দনাইশে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ, স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মজুদ রয়েছে। দোহাজারী হাসপাতালে আগামী ১ এপ্রিল নতুন দুইজন চিকিৎসক যোগদান করবেন। আমরা জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার আহবান জানাচ্ছি। বিশেষ করে বিশুদ্ধ পানি পান করা, হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখা এবং খাবারের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করছি। আমরা আশা করছি, সকলের সহযোগিতায় যে কোন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।”