
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের উলিপুরে ফসলি জমির ধান ক্ষেতে বেগুনি রঙের ধানের চারা দিয়ে সৃজনশীল দেশপ্রেমের স্বাক্ষর রেখেছেন উলিপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু জাফর সাদিক। এবার নিজের ধানক্ষেতে বেগুনি রঙের ধানের চারা দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন জাতীয় স্মৃতিসৌধের দৃষ্টিনন্দন এক প্রতিকৃতি। এর আগে তিনি একই কায়দায় ধানক্ষেতে জাতীয় পতাকা, জাতীয় ফুল এবং দেশের মানচিত্র ফুটিয়ে তুলে দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছিলেন এ শিক্ষক।
জাফর সাদিকের মাস্টার সিড নামক কৃষি প্রজেক্টে এ বছর বোরো মৌসুমে প্রায় ১৭ বিঘা জমিতে ব্রি ধান-১০০, ১০২, ১০৮, ১১৩ ও ১১৪-সহ বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করেছেন। সেই ক্ষেতেই ব্রি ধান-১১৩ এর সবুজ চারার মাঝে বেগুনি ধান দিয়ে তিনি স্মৃতিসৌধের আদল তৈরি করেছেন। দেশপ্রেম থেকে বোরো ক্ষেতে স্মৃতিসৌধ ফুটিয়ে তুলেছেন। পেশায় শিক্ষক হলেও কৃষির প্রতি গভীর অনুরাগ থেকে জাফর সাদিক নিয়মিত চাষাবাদ করেন। তার মতে, শিক্ষকতা পেশা হলেও কৃষি তার নেশা এবং দেশপ্রেম রক্তে মিশে থাকা বিশ্বাস। তিনি মনে করেন, কৃষিক্ষেত্রকে দেশপ্রেমের সৃজনশীল মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি তিনি মাটির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বীরত্বগাথা স্মরণ করিয়ে দিতে চান।
কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, বেগুনি রঙের ধান সৌন্দর্য ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি জাত। এ ধানের নাম মূলত পার্পল রাইস বা বেগুনি ধান নামে পরিচিত। এই ধান গাছের পাতা ও কান্ডের রঙ বেগুনি হয়। তাই কৃষকদের কাছে এ জাতটি বেগুনি ধান নামে পরিচিত।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভার পূর্ব নাওডাঙ্গা এলাকায় ডাম্পিং ষ্টেশনের পাশে তার মাষ্টার সীডের প্রজেক্ট। সেখানে ব্রি ধান-১১৩ এর সবুজ চারার মাঝে বেগুনি ধান দিয়ে তিনি স্মৃতিসৌধের আদল তৈরি করেছেন। যা দৃষ্টিনন্দন হিসাবে ফুটিয়ে উঠেছে। এ দৃষ্টিনন্দন স্মৃতিসৌধটি রাস্তার সাথে হওয়ায় প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার দর্শনার্থীরা এখানে এসে ভীড় করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আবু জাফর সাদিক উলিপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক। চাকুরির পাশাপাশি কৃষি কাজ করেন তিনি। গত বছর ধানের ক্ষেতে জাতীয় পতাকা, বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতীয় ফুল দৃশ্যায়ন করে জেলাজুড়ে আলোড়ন তুলে ছিলেন তিনি। এ বছরেও তিনি ধানের ক্ষেতে বেগুনি ধানের চারা রোপন করে স্মৃতিসৌধ ফুটিয়ে তুলে প্রশংসায় ভাসছেন।
জমিতে ফুটে উঠা স্মৃতিসৌধ দেখতে আসা আব্দুর রাজ্জাক, কবির হোসেন, রফিকুল ইসলাম ও ছামাদ মিয়া সহ আরও অনেকে বলেন, ধানের জমির মাঝে স্মৃতিসৌধ ফুটে উঠায় দেখতে অনেক সুন্দর লাগছে। এই ধরনের দৃশ্য সহজে চোখে পরে না। জমিতে স্মৃতিসৌধ দৃশ্যায়ন করে তিনি খুবই প্রশংসনীয় কাজ করেছেন।
আবু জাফর সাদিক বলেন, প্রজন্মকে ইতিহাস জানতে হবে। বিদ্যালয়ে আমি বইয়ের মাধ্যমে শেখাই, আর মাঠে মাটির মাধ্যমে তুলে ধরি সেই ইতিহাসের বীরত্ব। তার এই ব্যতিক্রমী প্রয়াস স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ধানক্ষেতে তোলা স্মৃতিসৌধের এই প্রতিচ্ছবি সামাজিক মাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে। অনেকে মন্তব্য করেছেন এটি শুধু এক কৃষকের শিল্প নয়, বরং শহীদদের প্রতি এক নীরব শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং দেশপ্রেমের জীবন্ত উদাহরণ। দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে তিনি এ কাজ করেছেন বলে জানান। আগামীতে আরও ব্যতিক্রম কিছু দৃশ্যায়ন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।