
নরসিংদী প্রতিনিধি : নরসিংদীতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরাকে গ্রেফতার করেছে নরসিংদী গোয়েন্দা পুলিশ।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। একই সময়ে অপর আসামি হযরত আলীকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ নিয়ে গত দুইদিনে এ ঘটনায় মোট সাতজনকে গ্রেফতার করা হলো।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে নরসিংদী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-ফারুক। পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার পর থেকেই মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত চারজন এবং পরবর্তীতে অপরাধ আড়াল ও সহায়তার অভিযোগে তিনজনসহ মোট সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি দুই পলাতক আসামিকেও দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নূর মোহাম্মদ নূরা নিজেকে এই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে স্বীকার করেছে। গ্রেফতারের সময় সে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পালানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে।
এর আগে, ভিক্টিম কিশোরীর মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে মাধবদী থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। শুক্রবার দুপুরে গ্রেফতার হওয়া পাঁচ আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ।আদালত রবিবার (১ মার্চ) রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছেন। রাতে সর্বশেষ গ্রেফতার হওয়া নূরা ও হযরত আলীকে আদালতে সোপর্দ করে তাদের বিরুদ্ধেও ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়- বুধবার রাতে কিশোরী আমিনাকে তার বাবার কাছ থেকে নূরার নেতৃত্বে একটি চক্র জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মাধবদী থানার কোতালিরচর দড়িকান্দি এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ কবরস্থানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।