
নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় বিপুল পরিমাণ বিদেশী মদসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫) সন্ধ্যায় উপজেলার দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ঢাকা গামী লেনে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এসময় একটি নীল-হলুদ রংয়ের ডিস্ট্রিক ট্রাক থেকে ৩৪০ বোতল বিদেশী মদ জব্দ করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। ট্রাকটির আনুমানিক মূল্য আরও ১৯ লাখ টাকা।
পুলিশ জানায়, আটককৃতরা হলেন— মাদারীপুর সদর উপজেলার ছয়না (ঘটমাঝি) গ্রামের মৃত হারেছ বেপারীর ছেলে রসুল বেপারী (৩৯) এবং একই উপজেলার কুঙ্গীপাড়া গ্রামের মৃত কামাল খাঁনের ছেলে মো. রাকিব খাঁন (২১)। তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।
এসআই (নিরস্ত্র) শিহাব আহম্মেদ জানান, ওইদিন সন্ধ্যায় তিনি সংগীয় ফোর্স নিয়ে কিলো-৬ এলাকায় নিয়মিত ডিউটি করছিলেন। এসময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পান যে, একটি ট্রাকে বিপুল পরিমাণ বিদেশী মদ পাচার করা হচ্ছে। খবর পেয়ে অফিসার ইনচার্জ মীর মাহবুবুর রহমানের নির্দেশনায় দ্রুত সেখানে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তাদের ট্রাকসহ আটক করা হয়।
তল্লাশীকালে ট্রাক থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ৩৪০ বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— ROYAL GREEN DELUXE BLENDED WHISKY: ৯০ বোতল (প্রতিটি ১৮০ মি.লি.), ROYAL STAG DELUXE WHISKY: ৮৫ বোতল (প্রতিটি ১৮০ মি.লি.), McDowell’s No1 RESERVE WHISKY: ১৩৫ বোতল (প্রতিটি ১৮০ মি.লি.), ROYAL GREEN DELUXE BLENDED WHISKY: ১৫ বোতল (প্রতিটি ৩৭৫ মি.লি.), AC BLACK PURE GRAIN DELUXE WHISKY: ১৫ বোতল (প্রতিটি ৩৭৫ মি.লি.) সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া মদের পরিমাণ প্রায় ৬৭ লিটার ৫০ মিলি।
এ ঘটনায় এসআই শিহাব আহম্মেদ বাদী হয়ে বেলাব থানায় মামলা নং-১২, তারিখ-১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ দায়ের করেন। মামলা দায়ের করা হয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩৬(১) সারণির ২৪(খ) অনুযায়ী। আটক আসামিদের রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হবে। মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয়েছে এসআই (নিঃ) আবদুল ছামাদকে।
বেলাব থানার অফিসার ইনচার্জ মীর মাহবুবুর রহমান বলেন,
“মাদক বিরোধী অভিযানে বেলাব থানা পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। কোনোভাবেই মাদক ব্যবসায়ীদের ছাড় দেওয়া হবে না। আটক আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে অনেক দিন ধরে মাদক পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালালেও প্রতিনিয়ত নতুন কৌশল বের করছে পাচারকারীরা। এ ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরলেও স্থানীয়রা আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
মাদকবিরোধী এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিদেশী মদ উদ্ধার এবং দুই আসামি আটকের ঘটনায় এলাকাবাসী পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তবে মাদক চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত ও আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।