
চট্টগ্রাম–২ (ফটিকছড়ি–ভূজপুর) সংসদীয় আসনে বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন ও ঋণখেলাপি সংক্রান্ত মামলা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনের আইনজীবীরা।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ফটিকছড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইসমাঈল গনি বলেন, মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে বিচারাধীন রয়েছে এবং চূড়ান্ত শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশে স্থগিতাদেশ রয়েছে। ফটিকছড়ি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্যে অ্যাডভোকেট ইসমাঈল গনি বলেন, ঋণখেলাপির অভিযোগ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা আদালত অবমাননার শামিল।
তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা নথিপত্রের ভিত্তিতে সরোয়ার আলমগীরকে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিষয় হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মামলাটি সাব-জুডিস। সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত কেউই এটি নিষ্পত্তি হয়েছে বলে প্রচার করতে পারে না। আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আপিল বিভাগ আগামী ২৮ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত চূড়ান্ত শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরোয়ার আলমগীরের নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। ফলে ওই প্রার্থীর ফলাফল সরকারিভাবে প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে তারা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী টিম অভিযোগ করে বলেন, প্রতীক বরাদ্দ ও মনোনয়ন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে নির্বাচন আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনি বিধান লঙ্ঘন করেছে। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তারা বলেন, আদালতের নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সংবাদ প্রকাশ করা সকলের দায়িত্ব।
অন্য আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলমগীর মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, সর্বোচ্চ আদালতে দায়ের করা মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরোয়ার আলমগীর নির্বাচিত হলেও তার ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা আইনগতভাবে সম্ভব নয়।
শেষ পর্যায়ে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, আমি ফটিকছড়িবাসীর পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব। কোনো ঋণখেলাপি, দুর্নীতিবাজ কিংবা সন্ত্রাসীকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আসন পরিচালক আব্দুল জব্বারসহ অ্যাডভোকেট ইসমাঈল গনি, অ্যাডভোকেট আলমগীর মোহাম্মদ ইউনুস, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট হাবিবুল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা।