
“সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ ৩০ মার্চ মঙ্গলবার সকালে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের হলরুমে বাগেরহাট সদর পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি) এবং ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর গ্রুপ (ওয়াইপিএজি)-এর বার্ষিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভাটির আয়োজন করে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ-এর মাল্টি স্টেকহোল্ডার ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি (এমআইপিএস) প্রকল্প, যা এফসিডিও’র অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাট সদর পিএফজি ও প্যান জেলা কমিটির কো-অর্ডিনেটর এস.কে.এ হাসিব এবং সঞ্চালনা করেন এমআইপিএস প্রকল্পের এমঅ্যান্ডই, রিসার্চ অ্যান্ড নলেজ ম্যানেজমেন্ট অফিসার সাইদুল ইসলাম।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জাতীয়তাবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবুল কালাম আজাদ (বুলু), পৌর বিএনপির নেতা সৈয়দ ওবাইদুল ইসলাম জুয়েল, ৫নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি শেখ শহীদুর রহমান, ৯নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নারগীস আক্তার ইভা, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন বাগেরহাট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের সভাপতি মোহাম্মাদ উল্লাহ আরেফি, জাতীয় পার্টির সদস্য নুসরাত বাধন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও পিএফজি অ্যাম্বাসেডর মোহব্বত হোসেন, সাংবাদিক ইয়ামিন আলী, সৈয়দ শওকত হোসেন, সাকির হোসেন,ইমাম মো. জিল্লুর রহমান, পুরোহিত রাজিব চক্রবর্তী, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মারকুস রাসেল, ওয়াইপিএজি সদস্য তৃষা পাল, নূরানী আক্তার মিতু, ইরানী আক্তার তুর্কি ও মো. সাহেদ হাসানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ।
সভা শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন এবং পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গোলাম রাসুল তরফদার নেওয়াজ, গীতা পাঠ করেন তৃষা পাল এবং বাইবেল পাঠ করেন মারকুস সরদার।
সভায় গত এক বছরে বাস্তবায়িত বিভিন্ন কার্যক্রম উপস্থাপন ও পর্যালোচনা করা হয়, যেখানে অর্জিত সফলতা ও উন্নয়নের দিকগুলো তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে অংশগ্রহণকারীরা চারটি দলে বিভক্ত হয়ে কাজ করেন। দলভিত্তিক আলোচনায় শক্তি, দুর্বলতা, সুযোগ ও হুমকি (SWOT) বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করা হয়।
পরবর্তীতে সকল দলের উপস্থাপনার ভিত্তিতে একটি সমন্বিত এক বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়, যা স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, সমাজে বিদ্যমান বিভাজন দূর করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এ ধরনের সমন্বয় সভা স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সভার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন এমআইপিএস প্রকল্পের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর মো: রেজবিউল কবির।