
বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাট জেলার রামপালে আন্তর্জাতিক বর্ণবৈষম্য বিলোপ দিবস পালন করেছে বেসরকারী সংগঠন নির্মাণ সমাজ উন্নয়ন সংস্থা। এবছরের মূল প্রতিপাদ্য ছিলো ‘সকল ধরণের বৈষম্য বন্ধে চাই রাজনৈতিক সদিচ্ছা।’
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে রামপাল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক বর্ণ বৈষম্য বিলোপ দিবসের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নাগরিক ফোরাম সভাপতি সাংবাদিক এম এ সবুর রানা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌসী। বিশেষ অতিথি ছিলেন রামপাল পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোপেন্দু চক্রবর্তী।
দিবস ও প্রতিপাদ্য বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন ও মডাটেরের দায়িত্ব পালন করেন নির্মণ সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রিজিয়া পারভীন। বক্তব্য প্রদান করেন উপজেলা নাগরিক ফোরামের সহ সভাপতি লায়লা সুলতানা, সাধারন সম্পাদক এঞ্জেল মৃধা, কার্যনির্বাহী সম্পাদক মো:মোজাফফর হোসেন, সদর ইউনিয়ন নাগরিক ফোরাম সভাপতি মোতাহার হোসেন মল্লিক, সহ সভাপতি ছবি রানী মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক কাজী ফারজানা মুন্নি, সদস্য শওকাত আলী, গৌরম্ভা ইউনিয়ন নাগরিক ফোরাম সাধারন সম্পাদক রিক্তা আক্তার, কার্যনির্বাহী সম্পাদক মো: মোহতাদির ও সাবিনা খাতুন প্রমুখ।
বিশ্ব জুড়ে সব ধরনের বর্ণ বৈষম্য দূর করতে এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে ১৯৭৯ সাল থেকে জাতিসংঘ ২১ মার্চ আন্তর্জাতিক বর্ণবৈষম্য বিলোপ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বিভিন্ন আইন প্রণয়নের বিরুদ্ধে সেখানকার কালো মানুষেরা আন্দোলন করে আসছিলো। ১৯৬০ সালের ২১ মার্চ শার্পভিল শহরে এমনই এক শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ৬৯ জন নিহত এবং প্রায় পৌনে দুই শত আন্দোলনকারি আহত হন। এই ঘটনায় সদস্য রাষ্ট্রগুলো জাতিসংঘের উপর বর্ণবাদ নিরসনে উদ্যোগ নিতে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। ১৯৬৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ পৃথিবীর সমস্ত দেশ থেকে জাতিভেদ ও বর্ণবৈষম্যের মত ভয়ানক আচরণ নির্মূল করতে সোচ্চার হয় এবং মানুষের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমানোর জন্য জোরালোভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৯ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২১ মার্চকে আন্তর্জাতিক বর্ণবৈষম্য বিলোপ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। তখন থেকে দিনটি সারা বিশ্বে বর্ণবৈষম্য বিলোপ দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। জাতিসংঘের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে ১৯৯৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বর্ণবাদী সকল আইন বিলুপ্ত হয়।
দিবসটি বিশ্বজুড়ে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াই, সমতা ও ঐক্যের প্রচার এবং জাতিগত অবিচার ও বৈষম্য বিলোপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার গুরুত্ব তুলে ধরে।
দাতা সংস্থা জিএফএ কনসাল্টিং গ্রুপ এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এর অর্থায়নে, আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট (উই ক্যান) এর সহযোগিতায় নাগরিক প্রকল্পের আওতায় এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।