
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বিএসআরএম কারখানার স্ক্রাপবাহী ব্যপরোয়া লরি চাপায় এক সবজি বিক্রেতার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পৃথক দুর্ঘটনায় স্ক্রাপবাহী লরি উল্টে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ ৭ ঘন্টা তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিএসআরএম কারখানার স্টিল ২ শেড়ের বয়লার বিস্ফোরণে ৮ শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। বিষ্ফোরণে আশপাশের কয়েক কিলোমিটার কেঁপে উঠলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তেমন কিছুই হয়নি বলে জানায় কারখানা ব্যাবস্থাপক দেলোয়ার মোল্লা।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ভোর ৬ টায় মিঠাছড়া বাজারে ও সকাল ৭ টায় ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনাফুনি এলাকায় বিএসআরএম কারখানার স্ক্রাপবাহী লরি চাপায় মৃত্যু ও লরি উল্টে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সহ পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটায়।
মিঠাছড়া বাজারের সবজি বিক্রেতা আরিফ হোসেন জানান, মঙ্গলবার সকালে মিঠাছড়া বাজারের সবজি বিক্রেতা হুমায়ুন (২৪) তার সবজির দোকানে কর্মচারী বসিয়ে মোটরসাইকেল যোগে মিঠাছড়া থেকে বড়তাকিয়া সবজির আড়তে যাচ্ছিলেন।
এসময় তিনি মিঠাছড়া বাজারের ইউটার্ন পার হওয়ার সময় বিএসআরএম কারখানার চট্টগ্রাম মুখি একটি খালি লরি হুমায়ুনের মোটরসাইকেল কে চাপা দেয় এতে ঘটনাস্থলেই হুমায়ুনের মৃত্যু হয়। এসময় তার মোটরসাইকেল টি দুমড়ে মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর লরিটি ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লরিটি বিএসআরএম কারখানায় স্ক্রাপ আনলোড করে খালি গাড়ি চট্টগ্রাম যাচ্ছিলো।
পৃথক দূর্ঘটনার বিষয়ে জানা যায়, মিঠাছড়া বাজারে দূর্ঘটনার ১ ঘন্টার মধ্যেই ফেনাফুনি এলাকায় স্ক্রাপবাহী একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রোড ডিভাইডারের উপর উঠে যায়। এসময় লরিটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপর আড়াআড়ি ভাবে উল্টে গেলে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
দুর্ঘটনা স্থলে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ও মিরসরাই থানা পুলিশ উপস্থিত হয়ে যান চলাচল কিছুটা চালু করলেও দুপুর ২ টা পর্যন্ত দীর্ঘ ২০ কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় জয়নাল নামে এক ব্যক্তি জানান, বিএসআরএম কারখানার শতশত ব্যাপরোয়া ড্রাম ট্রাক ও লরি প্রতিনিয়ত মহাসড়কে দূর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। উন্মুক্ত ভাবে বহনকরা স্ক্রাপ সড়কে ছিটকে পড়ে অন্যান্য গাড়ি দূর্ঘটনায় ভুমিকা পালন করছে। সোমবার বিএসআরএম কারখানার স্ক্রাপবাহী ড্যাম ট্রাক চাপায় স্থানীয় এক সংবাদ কর্মীর দুই পা থেঁতলে যায়।
ওই ঘটনায় স্থানীয়রা বিএসআরএম কারখানার ৩ টি স্ক্রাপবাহী ড্যাম ট্রাক আটক করে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কে বৈধ যে কোন যানবাহনের বিরুদ্ধে থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ বিভিন্ন অসঙ্গতির জন্য আইনি ব্যবস্থা নিয়ে থাকলেও বিএসআরএম কারখানার স্ক্রাপবাহী এসব লরির বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যাবস্থা গ্রহন করা হয়না।
কারণ হিসেবে তাদের অভিযোগ থানা প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশ কে মাসিক একটি নির্দিষ্ট মাসোহারা দিয়ে যেমন ইচ্ছা তেমন ভাবেই গাড়ি চালাচ্ছে তারা। তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না নেয়ার কারনেই মৃত্যু দুত হয়ে উঠেছে গাড়িগুলো।
মিরসরাই থানা টিআই ফরহাদ হোসেন বলেন, তিনি গত ১১ মাস মিরসরাই থানা এলাকায় কাজ করছেন। খোলামেলা ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে স্কাপ পরিবহন, ফিটনেস বিহিন গাড়ি, ওভারলোড়, অদক্ষ চালক এসব বিষয়ে গত ১১ মাসে কোন আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন কিনা তিনি তা সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি।
জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মোঃ জাকারিয়া জানান, আটককৃত ৩ টি গাড়ির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এছাড়া স্ক্রাপবাহী লরি ও ড্রাম ট্রাকের বিরুদ্ধে সড়ক আইন অনুযায়ী তদারকি করা হবে।
কুমিরা হাইওয়ে থানার ওসি জাকির রব্বানী জানান, তিনি গত ৫ মাস দায়িত্ব পালন কালে ঝুঁকিপূর্ণ স্ক্রাপবাহী লরি বা ড্রাম ট্রাকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন কিনা তা বলতে পারবেননা। যেভাবে স্ক্রাপ বহন করা হয় তা ঝুঁকিপূর্ণ কিনা তা খতিয়ে দেখে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন এই প্রতিনিধি কে।