
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা জাহেদুল হককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকালে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকা থেকে নাশকতার পরিকল্পনার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বিশেষ সূত্রে জানা যায়।
গ্রেপ্তারকৃত জাহেদুল হক বোয়ালখালী উপজেলার ৪ নং শাকপুরা ইউনিয়নের হাজী নরুল হকের পুত্র।তিনি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান।
জানা যায়,২০০৮ সাল থেকে প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীদের জেতানোর জন্য অর্থযোগান দিয়েছেন জাহেদুল হক। বিগত বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থিতা করে নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ বাগিয়ে নেয়ার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। জাহেদুল হকের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় একাধিক মামলা, ব্যাংক জালিয়াতি, রাজনৈতিক প্রভাব, ভূমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। জাহেদুল হকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ নতুন নয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ অভিযোগ তুলতে সাহস পাননি। বিগত সরকারের শাসনামলে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সৎ ভাইদের সম্পত্তি জোর পূর্বক দখলের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া বাবার প্রতিষ্ঠিত পশ্চিম শাকপুরা আমেনিয়া ফররুখীয়া নুরীয়া ইবতেদায়ী মাদ্রাসার ১৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং বাড়ি ভাড়ার প্রায় ১৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ সৎভাই নেছারুল হকের। নেছারুল হক জানান, জান-মালের নিরাপত্তা চেয়ে একাধিক সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছিলেন তিনি।
জাহেদুল হক চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানা ও খুলশী থানায় জুলাই অভ্যুত্থানে হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলার এজাহারভূক্ত আসামি। রাজধানীর ধানমন্ডি থানায়ও তার রিরুদ্ধে একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ঢাকা ও চট্টগ্রামের আদালতে জুলাই অভ্যুত্থানের মামলা রয়েছে।
গত ২০২৫ সালের ৪ জুলাই রাত ১১টা থেকে চট্টগ্রাম নগরের চিটাগাং ক্লাবের মূল ফটকের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় যুবশক্তি ও এনসিপি’র নেতা-কর্মীরা জাহিদুলের গ্রেপ্তারের দাবিতে অবস্থান নেন। তাদের অভিযোগ ছিল, জাহেদুল হক ‘জুলাই আন্দোলন’-এর সময় একাধিক হত্যা মামলার আসামি। ওই দিন ক্লাবে তার ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হলেও পরদিন তিনি বিদেশে চলে যান। সম্প্রতি তিনি দেশে ফেরেন।