
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে ড্রেজার দিয়ে চলছে পুকুর ভরাট। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা ভূমি অফিসের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেন।
সরেজমিনে জানাযায়, বাহাদুরপুর গ্রামের ঈদগাহ সংলগ্ন পুকুরটি প্রায় ৬০০ বছরের পুরনো। ৯৯ শতাংশ জমির উপর এই পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করে আসছেন। কয়েকদিন যাবত ড্রেজার দিয়ে পুকুরটিতে বালু ভরাট করা হচ্ছে। এবিষয়ে এলাকার সচেতন ব্যাক্তি ডা খোর্শেদ আলম উপজেলা ভূমী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট তিনজনকে আটক করেন। আটককৃতরা হলেন মো এরশাদ, দেওয়ান মিয়া ও রাজিব মিয়া।
অভিযোগকারী ডা খোর্শেদ আলম বলেন, পুকুরটি তাঁদের পূর্বপুরুষদের এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করে আসছে। পুকুর ভরাট করায় পয়োনিষ্কাশনসহ দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। এতে এলাকায় অগ্নিকাণ্ড ঘটলে পানির সংকটে আগুন নেভানোও কঠিন হয়ে পড়বে।
তবে বিবাদী পক্ষের লোকজন বলেন, আমদের থাকার মত বাড়িঘর নাই তাই সবাই মিলে পুকুরটি ভরাট করার উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের সবার সম্মতি থাকলে তো সরকার ও এখানে মানা করার কথা না।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী রবিউস সারোয়ার জানান, কিছুদিন ধরে পুকুরটি ভরাটের চেষ্টা চলছে-এমন অভিযোগ প্রশাসনের কাছে আসলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পুকুরটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হলেও সরকারি অনুমতি ছাড়া কোনো জলাশয় ভরাট করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
এ ঘটনায় আপাতত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ড্রেজারের পাইপ অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।