
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৬টি আসনের ৮০৫টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। জেলার ৬টি আসনে মোট ২৫ লাখ ৬৮ হাজার ১২৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় সারাদেশের সঙ্গে একযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৬টি নির্বাচনী আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। একটানা ভোটগ্রহণ চলবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ সরাইল- আশুগঞ্জে ভোট জালিয়াতির অভিযোগে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার হাস প্রতীকের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট নাসির মুন্সি কে আটক করে আজ ভোরে ৭ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছে যৌথ বাহিনী।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মোট ৮০৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৭৪টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯২টি কেন্দ্র ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত। সাধারণ কেন্দ্র রয়েছে ২৩১টি।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর): ৮০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৪টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১০টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের অংশ): ১৫১টির মধ্যে ৬৭টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৫টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর): ১৯২টির মধ্যে ১১১টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২৭টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া): ১৩০টির মধ্যে ৮৫টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৪টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর): ১৫৪টির মধ্যে ৯৯টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৫টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর): ৯৮টির মধ্যে ৬৪টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১১টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিটি আসনেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কেন্দ্রকে বিশেষ নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ বলেন, ঝুঁকি বলতে নির্দিষ্ট কোনো হুমকি নয়; বরং বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে কেন্দ্রগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার এই পাঁচটি বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমীন আক্তার জাহান বলেন, ঝুঁকির মাত্রা যাই হোক না কেন, কোনো কেন্দ্রই নিরাপত্তার বাইরে নয়। প্রতিটি কেন্দ্রে দুইজন পুলিশ সদস্য এবং ৮ থেকে ১০ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পুরো জেলাজুড়ে জালের মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সুযোগ নেই।
জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্রসহ মোট ৪৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটার ২৫ লাখ ৬৮ হাজার ১২৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৩ লাখ ২৯ হাজার ৯৭৮ জন, নারী ভোটার ১২ লাখ ৩৮ হাজার ১৩৩ জন এবং হিজড়া ভোটার ১৬ জন।