
মাদারীপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে প্রশাসন ও পুলিশ।
আটককৃতদের একজন আনসার সদস্য এবং অপরজন গৃহিণী বলে জানা গেছে। শুক্রবার বিকেলে মাদারীপুর সদর উপজেলার দুটি পৃথক পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ।
আটককৃতরা হলেন—কালকিনি উপজেলার জুরগাঁও গ্রামের অবিনাশ মণ্ডলের ছেলে অমৃত মণ্ডল এবং সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের ছয়না এলাকার আরিফুল ইসলামের স্ত্রী লাভলী বেগম। অমৃত মণ্ডল বর্তমানে আনসার সদস্য হিসেবে রাজধানী ঢাকার মতিঝিল এলাকায় কর্মরত রয়েছেন।
পুলিশ ও একাধিক সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকেলে সারাদেশে একযোগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন মাদারীপুর শহরের পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নেন অমৃত মণ্ডল। পরীক্ষা চলাকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তার কাছে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে ফোনটি তল্লাশি করে পরীক্ষার উত্তরপত্র সংবলিত তথ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করে মাদারীপুর সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
অন্যদিকে, একই দিনে সদর উপজেলার চরমুগরিয়া মহাবিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে থেকে লাভলী বেগমকে আটক করা হয়। শিবচর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবা ইসলাম তাকে আটক করেন। জানা গেছে, চরমুগরিয়া মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে বসে হাতে লেখা উত্তরপত্রের একটি নোট পড়ছিলেন লাভলী বেগম।
বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নজরে এলে তাকে সন্দেহজনকভাবে আটক করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ওই নোটের সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়া যায়। পরে তাকে মাদারীপুর সদর মডেল থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, “প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।”
এ ঘটনায় প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।