
মো: আবুসালেহ (সজীব) মির্জাপুর, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় ১০ নং গোড়াই ইউনিয়নের কদিম দেওহাটা গ্রামের সেলিম মিয়ার কন্যা হাফিজা (৮)। সে প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া একজন স্কুল শিক্ষার্থী ছিল। শিশু অপহরণের ৭ দিনপর হাত পা বাঁধা অবস্থায় বাড়ির পাশে পরিত্যাক্ত ঘরের ভিতর থেকে কাপড় দিয়ে পেছানো অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।
তাকে অপহরণ করে ধর্ষণ তারপর হত্যা করা হয়েছে বলে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষণকারী মূলহোতা বখাটে সাজিদ (১৯) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।সাজিদ বাইমাইল গ্রামের জালাল মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি হাফিজা নিখোঁজ হয় পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও মাইকিং করে হারানো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরে ১০ ফেব্রুয়ারি ৬০ হাজার টাকা মুক্তিপন দাবি করলে তার পিতা সেলিম মিয়া বখাটে সাজিদ ও তারসহযোগীদের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়। অভিযোগ নাম্বার ৪৬১।
অভিযোগের পর মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে বখাটে সাজিদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার দেওয়া ভাষ্যমতে শুক্রবার বিকেলে বাড়ির পাশে ডোবা থেকে হাত-পা
বাঁধা অবস্থায় শিশু হাফিজার লাশ উদ্ধার করা হয়। তার বাবা সেলিম মিয়া অভিযোগ করেন, আমার মেয়েকে বখাটে সাজিদ ও তার সহযোগিরা মিলে অপহরণ করে ধর্ষণ এরপর হত্যা করে লাশ গুম করে রেখেছিল। আমি সাজিদের ফাঁসীর জোড় দাবি জানাচ্ছি এবং তার বাকী সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য যে, শিশু কন্যা হাফিজা নিখোঁজের পর পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় লোকজন নিয়ে দেওহাটা ফাঁড়িতে যান। সেখানে কর্তব্যরত উপপরিদর্শক (এসআই) নূরনবীকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো তাদের সাথে খারাপ আচরণ এবং বিভিন্ন বাজে মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ করেন হাফিজার পরিবারের সদস্যরা।
মির্জাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল শেষে লাশ উদ্ধার করেন। এ সময় দেওহাটা ফাঁড়ির এসআই নুরনবী ঘটনাস্থলে গেলে পরিবারের সদস্যদের তোপের মুখে পড়েন। এরপরে স্থানীয় লোকজন নুরনবীকে নিরাপদে ঘটনাস্থল ত্যাগ করান।
এ ব্যাপারে এসআই মোহাম্মদ নূরনবী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুলিশের সহযোগিতায় একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাছাড়া নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের অভিযোগ আমি এ ঘটনায় কোন কাজ করি নাই।
এব্যাপারে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর রহস্য জানা যাবে। এসআই নুরনবীর বিরুদ্ধে পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে বলেন, এর সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তাছাড়া নুরনবীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয় সিনিয়র কর্মকতাদের অবহিত করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান তিনি।