
রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নে মীরেরখীল এলাকা থেকে গৃহ নির্মাণের চাঁদা না পেয়ে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টায় তারেক (২৭) নামে এক যুবককে সড়ক থেকে অপহরণ করে নিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে সন্ত্রাসীরা। পরে মীরেরখীল বিটের পুলিশ খবর পেয়ে সিঙ্গাপুর নামক এলাকা হতে এক কিলোমিটার দূরে গহীন জঙ্গল থেকে রাত ৯.৫০টায় অপহৃতকে জখমকৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে বলে নিশ্চিত করেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. হিলাল উদ্দিন আহমদ।
আহত তারেক মীরেরখীল ১ নং ওয়ার্ড এলাকার নবীর হোসেন মাস্টার বাড়ির আবুল খায়েরের ছেলে।
তার ভাই মানিক জানান, বসতভিটায় টিনের নতুন গৃহ নির্মানকালে সন্ত্রাসীরা কিছুদিন আগে চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদা না পেয়ে তারা আমার ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পুলিশের তড়িৎ ব্যবস্থার ফলে তাকে আহত অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এবিষয়ে মামলার জন্য তারা দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেন। অপহরণকারী চক্র এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী বলে দাবি করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ইফতার পরবর্তী সময়ে রাত সাড়ে আটটার সময় মীরের খীল এলাকার পুলিশ বিটের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় তারেক ইফতার শেষে ঘর থেকে বের হয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়। মীরের খীল এলাকার পুলিশ বিটের সামনে থেকে একদল সন্ত্রাসী ওই যুবককে জোরপূর্বক অপহরণ করে তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত তৎপরতা শুরু করে। পরবর্তীতে পুলিশের সহযোগিতায় ‘সিঙ্গাপুর’ নামক এলাকা থেকে এক কিলোমিটার দূরে গহীন জঙ্গল এলাকা থেকে আহত তারেককে উদ্ধার করে পুলিশ সদস্য ও স্বজনরা। তারেককে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আহত করে।
উদ্ধার করার পর তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা প্রদান করার কথা নিশ্চিত করে।
বর্তমান পরিস্থিতি ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। হামলার পেছনে কারা জড়িত বা কী কারণে এই হামলা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি।
এবিষয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. হিলাল উদ্দিন আহমদ জানান, ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে এবং আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, গত কিছুদিন পূর্বে কেবিডব্লিও ইটভাটায় হামলা ও অগ্নিসংযোগ, নবীর মাস্টারের ভাইয়ের বাড়িতে হামলা চালিয়ে দুর্বৃত্তরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। কয়েকদিনের মধ্যে পরপর তিনটি সন্ত্রাসী কার্যকলাপ একই চক্রের কাজ বলে ধারণা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।