
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করছেন নিয়োগপ্রার্থীরা। দিনভর অবরুদ্ধ কর্মকর্তারা- কর্মচারীরা। এতে স্বাভাবিক অফিস কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
আজ বুধবার (১২ নভেম্বর) সকাল ১০টায় জেলা পরিষদের সকল ফটক তালা দিয়ে গেইট বন্ধ করে দিয়ে তাঁরা বিক্ষোভ শুরু করেন। দুপুর সাড়ে ৩টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকারের ২৮টি বিভাগের প্রশাসনিক কাজ জেলা পরিষদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এর মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কার্যক্রমও রয়েছে। জেলা পরিষদে হস্তান্তরিত এই বিভাগের অধীনেই রাঙ্গামাটিতে সহকারী শিক্ষক পদের নিয়োগ পরীক্ষা আগামী শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে লিখিত পরীক্ষা স্থগিতের তথ্য জানানো হয়।
জেলা পরিষদ সূত্র জানায়, ২০২২ সালে জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে ৪৬২টি শূন্য পদের বিপরীতে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল জেলা পরিষদ। পরে চলতি বছর ২৭ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় আবার এসব পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে এসব পদের বিপরীতে আবেদন করেন প্রায় সাত হাজার চাকরিপ্রত্যাশী। পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে।
জানা যায়, পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে সকালে নিয়োগ প্রার্থীরা জেলা পরিষদের সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে জেলা পরিষদের সব ফটকে তালা দেন। এ সময় মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা যায় তাঁদের।
বিক্ষুব্ধদের একজন নীতিশ চাকমা চাকমা বলেন, ‘স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নির্ধারিত দিনেই পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে আমরা বিক্ষোভ করছি। একই সঙ্গে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার দাবি জানাই।’
বিক্ষোভ চলাকালে স্থগিত পরীক্ষা নির্ধারিত দিনে নেওয়ার পাশাপাশি নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।
প্রার্থীদের অভিযোগ, এ পর্যন্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা তিনবার স্থগিত করা হয়েছে। এতে প্রার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। চাকরিপ্রার্থীদের বয়স বেড়ে গেলেও তাঁদের অপেক্ষা কাটছে না।
এ বিষয়ে জানতে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার এবং জেলা পরিষদের সদস্য ও প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বৈশালী চাকমার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে দুজনেরই ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
রাঙ্গামাটির জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগ কমিটির সদস্যসচিব মো. কফিল উদ্দিন বলেন, ‘সহকারী শিক্ষক পদের প্রার্থীরা বিক্ষোভ করার বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়ে রাঙামাটি জেলা পরিষদ সিদ্ধান্ত নেবে।’
আন্দোলনরত চাকুরী প্রার্থী পরিক্ষার্থীবৃন্দরা জেলা পরিষদের প্রতিনিধি ও সদস্য মিনহাজ মুরশিদ, সদস্য দেব প্রসাদসহ অন্যান্য প্রতিনিধিদের নিকট ৩ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করেন।
এসময় মিনহাজ মুরশিদ জানান, আন্দোলনরতদের দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে। দ্রুততম সময় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত জানাবে।