
শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা ঝিনাইগাতী যেন হলুদ রঙের গালিচায় সেজেছে পল্লি প্রকৃতি। সরিষা ফুলের মনোমুগ্ধকর গন্ধে বিমোহিত ফসলের প্রান্তর। ‘ফাও’ ফসল হিসাবে পরিচিত সবচেয়ে অর্থকরী ফসল সরিষার এমন ফলনে কৃষান-কৃষানির মুখে এখন তৃপ্তির হাসি।
এই উপজেলার অধিকাংশ পরিবার দরিদ্র কৃষক ও প্রান্তিক চাষি তাদের আয় একমাত্র কৃষি ফসল। উৎপাদিত ফসল বাজারে বিক্রি করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। অত্র এলাকার কৃষকদের প্রধান ফসল ধান পাট ও নানা জাতের সবজি।
কৃষকরা প্রতিবছর আমন ও বোর চাষ করে থাকে। আমন ধান কাটার পর বোর চাষের পূর্বেই দু মাস সময় হাতে থাকে কৃষকেরা এই দুইমাস সময় জমি পতিত না রেখে দু মাসের ফাও ফসল শরিষা চাষ করে থাকে। এতে আমন ও বোর চাষের কোন ক্ষতি হয় না। মাঝখান থেকে কৃষকরা অতিরিক্ত বা বারতি ফসল হিসাবে শরিষা চাষ করে ব্যাপক লাভবান হয় কৃষকরা।
প্রতি একর জমিতে সরিষার চাষের যে ব্যয় হয় তার চেয়ে অনেক লাভবান হয় ক্ষুদ্র চাষীরা ৮-৯ হাজার টাকা ব্যয় করে প্রতি একর জমিতে সরিষার চাষ করতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভ করে থাকে ২০-২৫ হাজার টাকা। প্রতি একর জমিতে সরিষা উৎপাদন হয় ১২/১৫ মন। উৎপাদিত সরিষার মূল্য ৩৫/৪০ হাজার টাকা। উৎপাদন খরচ হয় ১০/১২ হাজার টাকা। তাহলে প্রতি একর জমিতে অতিরিক্ত আয় করতে পারে দরিদ্র কৃষক ও প্রান্তিক চাষীরা। এতে যেমন দেশের চাহিদার যোগান বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনি কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে।
এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ফরহাদ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করে জানা গেছে যে কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে দারিদ্র কৃষক ও প্রান্তিক চাষীদেরকে সরকারিভাবে কৃষি প্রণোদনা দিচ্ছি।
এ বছর অন্যান্য কৃষকদের সরিষা উৎপাদনে সার্বিকভাবে উৎসাহ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছি। যাতে কৃষকেরা উৎপাদনে মনোযোগী হয়।
চলতি বছরে অত্র ঝিনাইগাতী উপজেলায় প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের সরিষা চাষ করছে কৃষকেরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, এবারও ঝিনাইগাতীতে সরিষা ফলনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।