
শ্রীপুর(গাজীপুর)প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে অগ্নিকাণ্ডে ৪০টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ওইসব বসত ঘরে থাকা পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। নি:স্ব পরিবারের প্রত্যেকেই স্থানীয় কোনো না কোন পোশাক কারখানায় চাকরি করেন।
অগ্নিকাণ্ডের সময় তারা কর্মস্থলে থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে তারা রক্ষা পেয়েছেন। অগ্নিকান্ডে প্রায় কোটি টাকার উপরে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের মাওনা উত্তর পাড়া এলাকার খোকন মিয়ার মালিকানাধীন টিনশেড ঘরে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, খোকন মিয়ার মালিকানাধীন ৩০টি টিনশেঢ ঘর পোশাক শ্রমিকদেরকে কাছে ভাড়া দেওয়া হয়। ওইসব ঘরের ভাড়াটিয়ারা সকালেই কর্মস্থলে চলে যায়। সকাল ৯টার দিকে হঠাৎ একি ঘর থেকে ধোঁয়া বের হতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন অন্যান্য ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। টিন ও কাঠের তৈরি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা পানি ও বালতি নিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে এবং ফায়ার সাভির্েেস খবর দেয়। খবর পেয়ে শ্রীপুরের মাওনা ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিটের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে খোকন মিয়ার ৩০টি এবং নুর ইসলামের ১০টি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পোশাক শ্রমিকেরা জানায়, আগুনে তাদের ঘরে থাকা আসবাবপত্র, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান কাপড়চোপর পুড়ে গেছে।, কেউ হারানো জিনিসের খোঁজে পোড়া ধ্বংসস্তূপ হাতড়ে বেড়াচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে তীব্র আহাজারি দেখা গেছে। তারা দ্রুত সরকারি সহায়তা, খাদ্য, বস্ত্র ও আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত পোশাক শ্রমিক মিলি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি আর আমার স্বামী দুজনেই কারখানায় ছিলাম। আগুন লাগার খবর পেয়ে ছুটে এসে দেখি সব শেষ। ঘর থেকে একটা জিনিসও বের করতে পারিনি।
আপর শ্রমিক নাসরিন বলেন, ঘরে তালা দেওয়া ছিল। কিস্তিতে ঋণ করে প্রায় আড়াই লাখ টাকার মালামাল কিনে ঘর সাজিয়েছিলাম। মূল্যবান মালামালসহ সব ফার্নিচার পুড়ে গেছে। পড়নের কাপড় ছাড়া আর কিছুই রইল না।
বাড়ির মালিক খোকন মিয়া জানান, একটি ঘরে রাইস কুকারে ভাত বসানো ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইলেকট্রিক শর্ট সার্কিট থেকেই ওই ঘর থেকে আগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। আমার ৩০টিসহ অপর মালিকের ১০টিসহ মোট ৪০টি ঘরের সকল মালামালসহ ঘর পুড়ে গেছে। পোশাক শ্রমিক ভাড়াটিয়াদের কিছুই রক্ষা করা যায়নি। প্রায় কোটি টাকার উপরে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মাওনা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার খাইরুল আলম বলেন, খবর পেয়ে দুইটি ইউনিটের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ইলেকট্রিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।