
সরিষাবাড়ী প্রতিনিধি : জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের বিন্ন্যাফৈর গ্রামে দীর্ঘ তিন যুগ ধরে ভোগদখলে থাকা ১৮ বিঘা আবাদি জমি দখলচেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ১৯৪২ সালের কথিত নিলাম বিক্রির ভিত্তিতে প্রতিপক্ষ জাল নথি তৈরি করে জমির মালিকানা দাবি করছে এবং আদালতের চলমান মামলার সুযোগ নিয়ে দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মৃত আব্দুল মজিদ ওরফে পাগুর বংশধর খন্দকার রফিকুল ইসলাম রফিক গংদের আবাদি জমি জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা করছে একই গ্রামের মৃত নাসির উদ্দিন তালুকদারের বংশধর হাফিজুর রহমান ও তোতা গং। জমিটি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত ১৯৯৫ সালে। ১৯৪০ সালের ভাড়া মামলা ও ১৯৪২ সালের নিলাম দাবি মামলার নথি অনুযায়ী, বাদীপক্ষ দাবি করে যে ১৯৪০ সালের একটি ভাড়া মামলা (নং-২৫২) প্রেক্ষিতে ১৯৪২ সালে নিলাম বিক্রির মাধ্যমে তারা জমির মালিকানা লাভ করে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে উচ্চ আদালত পর্যন্ত কয়েকটি রায় বাদীপক্ষের অনুকূলে যায়।
তবে সম্প্রতি বিবাদীপক্ষ জামালপুর আদালতের ১৯৪০ সালের মূল ‘ভাড়া মামলা রেজিস্টার’-এর সার্টিফাইড কপি সংগ্রহ করে। সেখানে বাদীপক্ষের দাখিলকৃত নিলাম বিক্রির তথ্যের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—ভাড়া মামলার নথি জালিয়াতি করে ভুয়া নিলামের মাধ্যমে জমির মালিকানা দাবি করা হয়েছিল কি না।
দখল ও হুমকির অভিযোগ খন্দকার রফিকুল ইসলাম রফিক গংয়ের দাবি, তারা নিবন্ধিত হেবা-বিল-এওয়াজ ও সাফ-কাবলা দলিলের মাধ্যমে জমি ক্রয় করে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দখলে আছেন। আর.এস. খতিয়ানেও তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবু প্রতিপক্ষ আবাদি ফসল নষ্ট করছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
অন্যদিকে অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান গংয়ের বক্তব্য, তাদের পূর্বপুরুষ নাসির উদ্দিন তালুকদার ১৯৪২ সালের নিলামে জমি কিনেছিলেন এবং তারাই প্রকৃত মালিক।
প্রশাসনের অবস্থান এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাচ্চু মিয়া বলেন, আবাদি জমি নষ্ট ও বেদখলের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যেহেতু বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন এবং জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে, তাই তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের এই বিরোধ এখন গুরুত্বপূর্ণ আইনি মোড়ে দাঁড়িয়ে। যদি জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তিন দশকের বেশি সময় ধরে দখলে থাকা পরিবারটি ন্যায়বিচার পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করছে।