
বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি: জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত নয়নাভিরাম ‘লাউচাপড়া অবসর বিনোদন কেন্দ্র’ ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখছেন এলাকার সচেতন মহল।
দীর্ঘদিন অবহেলা আর জরাজীর্ণ দশায় পড়ে থাকা এই পর্যটন কেন্দ্রটি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ‘স্বপ্নের মুখ’ দেখার নেপথ্যে রয়েছেন নবনিযুক্ত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য সরাসরি পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় লাউচাপড়াকে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার মাহেন্দ্রক্ষণ হিসেবে দেখছেন এলাকাবাসী।
জেলা পরিষদ কর্তৃক ১৯৯৬ সালে স্থাপিত এই বিনোদন কেন্দ্রটি গারো পাহাড়ের পাদদেশে প্রায় ২৬ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। ঘন সবুজ বন, ছোট-বড় পাহাড়ি টিলা আর শান্ত স্নিগ্ধ পরিবেশের কারণে এটি শুরু থেকেই পর্যটকদের কাছে একটি আদর্শ স্থান। এখানে পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ প্রায় ১৫০ ফুট উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত ‘পর্যবেক্ষণ টাওয়ার’। যেখান থেকে দাঁড়িয়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের আকাশচুম্বী পাহাড় আর দিগন্তজোড়া সবুজের সমারোহ উপভোগ করা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, লাউচাপড়া দীর্ঘদিন যাবৎ সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তার জৌলুস হারিয়েছিল।পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকা, আবাসন সংকট ও নিরাপত্তার অভাবে পর্যটকরা বিমুখ হচ্ছিলেন। তবে এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত পর্যটন প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ার পর চিত্র বদলাচ্ছে। সচেতন মহলের মতে, মন্ত্রণালয়ের চাবিকাঠি এখন এলাকারই সন্তানের হাতে, যা লাউচাপড়াকে পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সবচেয়ে বড় সুযোগ।
স্থানীয় সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, “লাউচাপড়া শুধু একটি বিনোদন কেন্দ্র নয়, এটি এ অঞ্চলের অর্থনীতির প্রাণ। পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দূরদর্শী পদক্ষেপে যদি এখানকার কটেজগুলো সংস্কার, যাতায়াত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, তবে এটি হবে উত্তরবঙ্গের অন্যতম সেরা পর্যটন গন্তব্য।” এতে শত শত বেকার যুবকের কর্মসংস্থান ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটবে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত দেশের পর্যটন খাতকে ঢেলে সাজানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বিশেষ করে নিজ নির্বাচনী এলাকার এই রত্নটিকে আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তোলার যে পরিকল্পনা তিনি হাতে নিয়েছেন, তাতে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেতে শুরু করেছে লাউচাপড়া।
প্রকৃতির সান্নিধ্যে পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে সময় কাটানোর এই অপূর্ব পাহাড়ি স্পটটি কবে নাগাদ পূর্ণাঙ্গ আধুনিক রূপ পায়, এখন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রহর গুনছে বকশীগঞ্জসহ সারা জামালপুরবাসী।