
চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রতি শতভাগ সততা, নিরপেক্ষতা ও বিবেকবোধের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহবান জানিয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, “১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচন ক্ষমতার পালাবদল কিংবা চেয়ার পরিবর্তনের নয়, নতুন একটি বাংলাদেশের রূপরেখা।
এই নির্বাচন বাংলাদেশকে মেরামতের আয়োজন। রাষ্ট্রের এই আয়োজনে কোনোভাবে পরাজিত হওয়ার সুযোগ নেই। দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ ও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি উজ্জলের জন্য রাষ্ট্রের এই আয়োজনে জয় ছিনিয়ে আনতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো ভোটগ্রহণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা।”
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসন ও নির্বাচন অফিসের আয়োজনে ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা এমন একটা দেশ তৈরি করতে চাই, যে দেশে আপনি, আমি ও আমাদের সন্তানেরা নিরাপদ। সেই দেশ তৈরি করার মহান দায়িত্ব আপনাদের ওপর অর্পিত হয়েছে। কারো ব্যক্তিগত পছন্দ বা অনুভূতি থাকতে পারে, তবে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার পর তা প্রকাশের সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের প্রতি, কর্তব্যের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা দেখাতে হবে। কোন ধরণের শৈথিল্যতা মেনে নেওয়া হবে না। কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার দায় নির্বাচন কমিশন নেবে না।
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সিসিটিভি ক্যামেরা, সুরক্ষা অ্যাপ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বডিওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিকভাবে মনিটরিং করা হবে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা প্রশাসন নিশ্চিত করবে। তবে ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরই। ভোটারদের কোনো প্রশ্নের জবাবে ‘আমি জানি না’- এ ধরনের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। দায়িত্ব নেওয়ার অর্থই হলো বিষয়গুলো ভালোভাবে জানা এবং ভোটারকে বুঝিয়ে বলা। এ জন্য আপনারা প্রস্তুত হয়ে আসবেন।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইতিপূর্বে মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয় নাই। আমাদের ভাবমূর্তি বিশ্ব অঙ্গনে নষ্ট হয়েছে। আমরা যারা সরকারের কর্মচারী, তাদের গায়ে কাদা লেগেছে। আমরা সেই কাদা দূর করতে চাই। অতীতের যে গ্লানি বা নেতিবাচক ধারণা রয়েছে, তা মোচন করে নিজেদের প্রমাণ করার এটাই সুযোগ। জনগণের প্রত্যাশা ও রাষ্ট্রের প্রত্যাশা একটাই-একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. রাজিব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজির আহমেদ খাঁন, ১২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. মাহমুদুল হাসান,পিএসসি,জি, আনসার ও ভিডিপি সহকারী জেলা কমান্ড্যান্ট ফরিদা পারভীন সুলতানা, স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক গোলাম মঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ বশির আহমেদ।
এসময় চন্দনাইশ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঝন্টু বিকাশ চাকমা, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত হালদার, সহকারি পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) মোঃ সোহানুর রহমান সোহাগ, চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইলিয়াছ খান পিপিএম, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক সহ নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে চন্দনাইশ উপজেলার মোট ৬৪টি ভোটকেন্দ্রের জন্য দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এতে ৬৪ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৩৭০ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৭৪০ জন পোলিং অফিসার অংশ নেন। প্রশিক্ষণে ভোটগ্রহণ সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা, ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, গণভোট পরিচালনার পদ্ধতি, ভোটার সহায়তা এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলার বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়।