
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় নিখোঁজের ১২ দিন পর আলাউদ্দিন (২৮) নামে এক অটোরিকশাচালকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার বিকেলে বাঙ্গরা বাজার থানার পুলিশ ঘোষঘর পূর্বধইর ইউনিয়নের হিরাপুর কবরস্থান সংলগ্ন ভুড়ি নদীর পাড় থেকে লাশটি উদ্ধার করে।
নিহত আলাউদ্দিন দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের সুলতান আহমেদের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক এবং তিন সন্তানের জনক।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার ফুলতলী এলাকায় অটোরিকশার ত্রুটি ঠিক করার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন আলাউদ্দিন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। ওই রাত থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাননি। পরে দেবিদ্বার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
দীর্ঘদিন কোনো খোঁজ না মেলায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলাউদ্দিনের ছবি ছড়িয়ে তাকে খুঁজে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়।
সোমবার বিকেলে হিরাপুর এলাকার ভুড়ি নদীর পাড়ে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে স্থানীয়রা একটি অর্ধগলিত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা লাশটি আলাউদ্দিনের বলে শনাক্ত করেন।
এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে আলাউদ্দিনকে হত্যার পর কচুরিপানার নিচে লাশ লুকিয়ে রাখা হয় এবং তার অটোরিকশাটি ছিনতাই করা হয়। নিখোঁজের প্রায় ১২ দিন পর শিয়ালে টেনে বের করায় লাশটি ভেসে ওঠে। এ সময় একটি পা শিয়ালে খেয়ে ফেলে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, বাঙ্গরা বাজার থানায় লাশ ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত দেবিদ্বার বা বাঙ্গরা বাজার থানায় এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে কোন থানায় মামলা রুজুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরপর মামলার প্রক্রিয়া অনুযায়ী অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।