Online Desk
২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৫:২৯ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

বকশীগঞ্জে বিস্ফোরক মামলার চার্জশিট থেকে আ.লীগের তিন নেতা বাদ: ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

বকশীগঞ্জে বিস্ফোরক মামলার চার্জশিট থেকে আ.লীগের তিন নেতা বাদ: ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জে একটি বিস্ফোরক মামলার চার্জশিট থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের তিন শীর্ষ নেতাসহ ১১ জনকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

গত ৫ ডিসেম্বর পুলিশ আদালতে এই অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয়। তবে মামলার প্রধান আসামিদের কয়েকজনকে অব্যাহতি দেওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।

২০২৪ সালের ২ অক্টোবর বকশীগঞ্জ থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলাটি দায়ের করেছিলেন মেরুরচর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আনিছুর রহমান।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছিল, বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদে গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং হাইওয়ে থানায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়িত ছিলেন। এতে ১৩৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩০০ জনকে আসামি করা হয়।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ ১২৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিলেও সেখান থেকে বাদ পড়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সাকা, কোষাধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. অনিল কুমার ধর। বাকি আসামিদের মধ্যে দুইজন মারা গেছেন।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, “আওয়ামী লীগের যেসব প্রভাবশালী নেতা গত ১৭ বছর আমাদের ওপর জুলুম করেছে, তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে পুলিশ পরিকল্পিতভাবে নাম বাদ দিয়েছে। আমরা এই চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করছি এবং তাদের নাম পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছি।”

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদ আহাম্মেদ রাজু। তিনি দাবি করেন, প্রভাবশালী নেতাদের বাদ দেওয়ার পেছনে ‘অনৈতিক আর্থিক লেনদেন’ কাজ করেছে।

তবে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বকশীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মনজুরুল ইসলাম বলেন, “তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি, কেবল তাদের নামই বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি একটি আইনি প্রক্রিয়া।”

তদন্ত চলাকালীন বকশীগঞ্জ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহাম্মেদ জানান, তদন্তের ভিত্তিতেই অভিযোগপত্র তৈরি করা হয়েছে এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে এতে জড়ানো হয়নি।

মামলার বাদী আনিছুর রহমান বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। তার ছেলে রবিন জানান, তার বাবা স্ট্রোক করার পর থেকে শয্যাশায়ী এবং কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। মামলার পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি সুস্থ হওয়ার আগে কিছু বলতে পারছেন না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্পর্শকাতর এই মামলা থেকে শীর্ষ নেতাদের অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফটিকছড়িতে জামায়াতপ্রার্থীর আইনজীবী টিমের সংবাদ সম্মেলন

কাহালুর জামগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত

ধুনটে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে অবরুদ্ধ সভাপতিকে উদ্ধার এবং গ্রেফতার

হত্যার বিচারের দাবিতে যমুনার সামনে এবার ওসমান হাদীর স্ত্রী

‘লুটেরাদের জন্য ভোটাররা সাড়ে ১২ কোটি লালকার্ড তৈরি করে রেখেছে’: নাটোরে ডা. শফিকুর রহমান

বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে বিএনপি’র বিকল্প নাই – জিএম সিরাজ

বাগেরহাট পৌরসভার সরকারি খাল দখলমুক্ত করে শহরের জলবদ্ধতার নিরসন করা হবে

ধুনটে ধানের শীষ প্রতিকের পক্ষে বিএনপির মিছিল

আড়াইহাজারে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণের প্রত্যাশা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত: জেলা প্রশাসক

বিজয়নগরে ডাকাত দলের সর্দারসহ ৭ জন গ্রেপ্তার

১০

বোয়ালখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মিলবে চক্ষু রোগের সেবা

১১

জেলা তথ্য অফিস, গোপালগঞ্জ-এর আয়োজনে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

১২

শ্রীপুরে অগ্নিকাণ্ডে ৪০টি বসতঘর পুড়ে ছাই, কোটি টাকার ক্ষতি

১৩

একুশে পদকের জন্য ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ১ প্রতিষ্ঠান মনোনীত

১৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আল হেরা তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসার সবক প্রদান ও দোয়া অনুষ্ঠিত

১৫

এসওএস শিশু পল্লীর সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে ইবিএল

১৬

দীর্ঘদিন যাবৎ ধর্মীয় আলোচক হিসেবে ইসলাম প্রচার করে যাচ্ছেন ডা: এন আই ফারুকী

১৭

নির্বাচনের আগে হাবিপ্রবিতে ভর্তির তড়িঘড়ি, ভোগান্তির আশঙ্কা

১৮

গাজীপুর-৩ আসন স্বাধীনতার পর প্রথম দলীয় প্রার্থী পেয়ে বিএনপিতে উচ্ছ্বাস

১৯

জামালপুর-১: মিল্লাতের সঙ্গে সাঈদী ও রউফের ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস

২০