
এজিয়ান সাগরে গ্রিক কোস্টগার্ডের একটি জাহাজ এবং একটি অভিবাসী নৌকার সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) তুরস্কের কাছে কাইয়স দ্বীপের কাছে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
দ্রুত গতিতে যাচ্ছিল। কোস্টগার্ডের পাঠানো সংকেত যথেষ্ট তীব্র হলেও চালক তা মেনে চলতে ব্যর্থ হন। ফলে নৌকাটি কোস্টগার্ডের জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা খায়। আঘাতের তীব্রতার ফলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নৌকাটি ডুবে যায়।’
কোস্টগার্ডের বক্তব্য, প্রাথমিক ভাবে সমুদ্র থেকে ১৪ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজন নারীও রয়েছেন। পরে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা আরেকজন নারীর হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যু হয়। তার আঘাত গুরুতর ছিল বলে জানা গিয়েছে।
গ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১১টি শিশু ও দুজন আহত কোস্টগার্ডকে উদ্ধার করে যাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পাঁচটি নৌকা এবং একটি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধারকারীরা বুধবার ভোরেও সমুদ্রে আরোহীদের খোঁজে তল্লাশি চালান। তবে অভিবাসী নৌকায় মোট কতজন আরোহী ছিলেন তা নিশ্চিত করা যায়নি।
প্রসঙ্গত, সংঘাত এবং দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং এশিয়ার অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশের একটি প্রধান দেশ হল গ্রিস।
অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অনেকেই তুর্কি উপকূল থেকে বিপজ্জনক পথে রাবারের ডিঙিতে চেপে গ্রিসে প্রবেশের চেষ্টা করেন। মানবপাচারকারীরাও এই অসহায়তার সুযোগ নেয় অনেক ক্ষেত্রে। সম্প্রতি গ্রিক কর্তৃপক্ষ টহলদারি বাড়িয়েছে। তুরস্কের বিরুদ্ধে তারা পুশব্যাকের অভিযোগ এনেছে। যদিও তুর্কি কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আশ্রয় আবেদনের অনুমতি না দিয়ে পারাপারের প্রচেষ্টা হ্রাস করেছেপ্রতি বছর বিপুল সংখ্যক অভিবাসী ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা গত বছরের নভেম্বরে জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ভূমধ্যসাগর এবং পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলে আটলান্টিক মহাসাগরের রুটে ইউরোপে অভিবাসনের পথে সতেরোশো জনেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, ২০১৪ সাল থেকে ভূমধ্যসাগরে প্রায় ৩৩ হাজার অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন।
পাচারকারীরা নিয়মিতভাবে তুরস্ক থেকে পূর্ব এজিয়ানের গ্রিক দ্বীপপুঞ্জে অভিবাসীদের পরিবহন করে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার মতে, চলতি বছরের শুরু থেকে প্রায় হাজার জন অভিবাসী এই সীমান্ত অতিক্রম করেছেন এবং ২০২৫ সালে প্রায় ৪২,০০০ অভিবাসী সীমান্ত পেরিয়ে এসেছেন।
গত বছর পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ১০৭ জনের মৃত্যুর রেকর্ড করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা, যদিও গ্রিসের কোস্টগার্ড কর্তৃপক্ষের ধারণা, মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি।
সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস, এপি