
ঈদের ছুটিতে ঢাকার ব্যস্ততা অনেকটাই কম। বছরের অন্য সময় যেখানে যানজটে নাকাল হতে হয় নগরবাসীকে, সেখানে ঈদের এ কয়েকদিন শহর যেন নেয় স্বস্তির নিশ্বাস। এ সুযোগে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ঢল নেমেছে।
রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে সকালেই দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। জাদুঘরে আসা দর্শনার্থীদের বেশিরভাগই শিশু-কিশোর।
ঈদের তৃতীয় দিন সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল সাড়ে দশটায় খুলে দেওয়া হয় জাতীয় জাদুঘর। এরপর একে একে প্রবেশ করতে থাকেন দর্শনার্থীরা। আজ জাদুঘর খোলা থাকবে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত।
ব্যস্ত এই যান্ত্রিক শহরে এমন নির্ভার সময় খুব একটা পাওয়া যায় না। আর তাই ঈদের এই ছুটিতে নিজেদের মতো করে আনন্দ খুঁজে নিচ্ছেন রাজধানীবাসী। কেউ খুঁজছেন একটু স্বস্তির সময়, কেউ বা প্রিয়জনদের সঙ্গে ছোট ছোট আনন্দের মুহূর্ত।
সরেজমিন দেখা যায়, লাইন ধরে জাতীয় জাদুঘরে প্রবেশ করছেন দর্শনার্থীরা। দর্শনার্থীদের বেশিরভাগই শিশু-কিশোর। তারা পরিবারের বাবা-মা এবং ভাই-বোনের সঙ্গে এসেছে। প্রথমে গেটের বাইরে থেকে টিকিট সংগ্রহ করছেন। তারপর ভেতরে গিয়ে লাগেজ কাউন্টারে জমা দিয়ে মূল জাদুঘরে প্রবেশ করছেন। উৎসুক শিশু-কিশোররা মিউজিয়ামে এসে মনে হচ্ছে বাসার চার দেয়ালের বন্দিজীবন থেকে মুক্তি পেয়েছে।
বাবা রিয়াদ মোল্লা ও মা শিখা আক্তারের হাত ধরে জাতীয় জাদুঘরে এসেছে পাঁচ বছরের সাফিন মোল্লা। বাবা-মায়ের সঙ্গে কাউন্টারের লাইনে দাঁড়িয়েছে। জাদুঘরে প্রবেশের তর যেন সইছে না তার।
এদিকে প্রায় ১০ মিনিট টিকিট কাউন্টার ও গেটে দাঁড়িয়ে থাকার পর জাদুঘরে প্রবেশ করে নাদিয়া। প্রবেশ করতেই তার চোখে-মুখে আনন্দ। নাদিয়ার মা বিলকিস ফাতেমা বলেন, আমাদের বাসা ঢাকার শনির আখড়া। সকাল সকাল বাসা থেকে বের হয়েছি মেয়েকে নিয়ে। আজকে তাকে ঘুরে ঘুরে জাতীয় জাদুঘর দেখাবো। জাদুঘরে দেশের বিভিন্ন ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংগ্রহ করা আছে। এসব দেখে কিছু বুঝতে ও শিখতে পারবে।
মোহাম্মদপুর থেকে পরিবার নিয়ে জাদুঘরে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী ইসমাইল হোসেন। তিনি বলেন, ঢাকায় থাকি কিন্তু জাদুঘরে কখনও আসা হয়নি। বাবুটার অনেক আগ্রহ জাদুঘর দেখবে এবং সকালে বলে আব্বু চলো, জাদুঘর দেখে আসি।
এবার ঈদে যেহেতু গ্রামে যাওয়া হয়নি, তাই ঈদের ছুটি থাকায় সপরিবারে চলে এসেছি। বাচ্চাটা ক্লাস থ্রিতে পড়ে, জাদুঘরের সংরক্ষিত ইতিহাস ঐতিহ্য দেখে সে কিছু শিখতেও পারবে।