
জাতিসংঘের এক উচ্চপদস্থ মিত্র কূটনীতিক বৈশ্বিক এই সংস্থাটির সব ধরনের দাপ্তরিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। সংস্থাটি বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পরের সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে অভিযোগের পর পদত্যাগ করেছেন তিনি।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও এক্সে দেওয়া পোস্টে ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাব্য হুমকির কথা জানিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া ওই কূটনীতিকের নাম মোহাম্মদ সাফা। প্রায় ১২ বছর ধরে জাতিসংঘে প্যাট্রিয়টিক ভিশন অর্গানাইজেশনের (পিভিএ) স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, ‘‘মানবতার বিরুদ্ধে এই ‘অপরাধের সাক্ষী’ হয়ে থাকা তার পক্ষে আর সম্ভব নয়।’’ পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের সঙ্গে তীব্র যুদ্ধের মাঝে সাফার এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে।
মোহাম্মদ সাফা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে বলেছেন, জাতিসংঘের শীর্ষ নেতৃত্ব একটি ‘শক্তিশালী লবির’ স্বার্থ রক্ষায় ভিন্নমত দমন করছে। তার দাবি, এই লবিটি ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালিয়ে যুদ্ধাবস্থা তৈরির ষড়যন্ত্র করেছে।
পোস্টে মোহাম্মদ সাফা জাতিসংঘের বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতার অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি মনে করি না যে মানুষ পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারছে; জাতিসংঘ ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে।’’
তেহরান প্রায় ১ কোটি মানুষের একটি শহর। এই শহরে কোটি মানুষের পাশাপাশি জীবজন্তুরও বসবাস রয়েছে বলে বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন সাফা। নিজের পদত্যাগকে ‘হুইসেলব্লোয়িং’ বা তথ্য ফাঁসের পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
সাফা বলেছেন, ‘‘এই তথ্য ফাঁস করার জন্যই আমি আমার কূটনৈতিক ক্যারিয়ার ত্যাগ করেছি। মানবতার বিরুদ্ধে এই অপরাধের অংশীদার কিংবা সাক্ষী না হওয়ার জন্যই আমি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছি। অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই ‘নিউক্লিয়ার উইন্টার’ ঠেকানোর একটি প্রচেষ্টা এটি।
দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার আগে জাতিসংঘের পরামর্শক কাঠামোতে বেশ প্রভাবশালী অবস্থানে ছিলেন মোহাম্মদ সাফা। ২০১৩ সাল থেকে তিনি প্যাট্রিয়টিক ভিশনের (পিভিএ) নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) বিশেষ পরামর্শক পদমর্যাদা সম্পন্ন একটি সংস্থা পিভিএ।
২০১৬ সালে তিনি সংস্থাটির স্থায়ী প্রতিনিধি মনোনীত হন এবং এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন মহাসচিব ও মানবাধিকার পরিষদের প্রেসিডেন্টদের অধীনে পিভিএ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। সাফা বলেছেন, জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রস্তাবিত ‘সংস্কার প্রক্রিয়া’ অর্থবহভাবে বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আর দায়িত্বে ফিরবেন না।
• ইরান পারমাণবিক হুমকি, এটি অপপ্রচার : সাফা
সাফা বলেছেন, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও কূটনীতিকরা একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধ উসকে দিতে ‘ইরানের পারমাণবিক হুমকির’ নামে ‘মিসইনফরমেশন ক্যাম্পেইন’ শুরু করেছেন।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম এবং বৈশ্বিক গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে মানুষকে এটি বিশ্বাস করতে বাধ্য করা হচ্ছে যে, ইরান বিশ্বশান্তির জন্য এক আসন্ন হুমকি।
মোহাম্মদ বলেছেন, গাজা ও লেবাননে সামরিক অভিযানের যৌক্তিকতা দেখাতেও একই কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল। জনসাধারণের প্রতি রাজপথে নেমে আসার এবং ‘মানবতা ও ভবিষ্যতের জন্য প্রতিবাদ’ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেবল সাধারণ মানুষই এটি থামাতে পারে।
সূত্র: ইকোনমিক টাইমস।