Ibrahim Atiullah Anik
২ ডিসেম্বর ২০২৫, ৬:২২ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, অধ্যাদেশ জারি

গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, অধ্যাদেশ জারি
ছবি : সংগৃহীত

গুমের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রেখে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ জারি করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সোমবার (২ ডিসেম্বর) এই অধ্যাদেশটির গেজেট প্রকাশ করা হয়।

অধ্যাদেশে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলা হয়েছে। এই অধ্যাদেশের অধীনে অপরাধ বিবেচিত হবে জামিন ও আপস অযোগ্য হিসেবে।

গুমের আদেশ বা অনুমতি দেওয়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও সমান সাজার বিধান রয়েছে অধ্যাদেশে।

অধ্যাদেশে আরো বলা হয়, কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, আটক, অপহরণ বা স্বাধীনতা হরণ করার পর কোনো সরকারি কর্মচারী বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য যদি বিষয়টি অস্বীকার করেন বা ওই ব্যক্তির অবস্থান, অবস্থা বা পরিণতি গোপন রাখেন এবং এ কারণে ওই ব্যক্তি যদি আইনগত সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন তাহলে একে গুম বা শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ বলে গণ্য করা হবে। দায়ী ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে।

গুমের সাজার ধারায় আরো বলা হয়, গুম হওয়া কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে বা গুমের পাঁচ বছর পরেও তাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে এ অধ্যাদেশের অধীনে দায়ী ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া যেতে পারে। 

অধ্যাদেশে আরো বলা হয়, যদি কোনো ব্যক্তি সজ্ঞানে গুমের সাক্ষ্য-প্রমাণ গোপন, বিকৃত বা নষ্ট করেন বা গুমের উদ্দেশ্যে গোপন আটককেন্দ্র নির্মাণ, স্থাপন বা ব্যবহার করেন, তাহলে সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এমনকি ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা অন্য কোনো অজুহাত এক্ষেত্রে কার্যকর হবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হলেও তিনি মূল অপরাধের সমান দণ্ডপ্রাপ্ত হবেন।

অভিযুক্ত পলাতক থাকলেও বিচার সম্পন্ন করা যাবে বলে অধ্যাদেশে জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ৬ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই অধ্যাদেশের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম এই অধ্যাদেশকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করে জানান, গুম নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করে এটি তৈরি করা হয়েছে।

শফিকুল আলম আরো জানান, গুম কমিশনে প্রায় দুই হাজার অভিযোগ এসেছে। তবে গুমের সংখ্যা চার হাজারের মতো হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে গত ২৮ আগস্ট মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেয় উপদেষ্টা পরিষদ।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

লংগদুতে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

লংগদুতে কৃষকদে দিনব্যাপী পার্টনার প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

বিগত ১৬ বছরের নির্বাচনে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে : স্পিকার

অটিজম আক্রান্তদের জন্য লন্ডন বিমানবন্দরে এমিরেটসের ট্রাভেল রিহার্সাল

দীর্ঘ ১৫ বছরেও সংস্কার করা হয়নি লোহালিয়া খেয়াঘাট সংলগ্ন বেড়িবাঁধের ২৫০ মিটার রাস্তা

সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা চরম দুর্ভোগে খামারকান্দি ইউনিয়নের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ

বাঁশখালীতে টিয়াপাখি বিক্রির ফাঁদ: যুবক আটক, ২০ হাজার টাকা জরিমানা

বাউফলে বাঁচতে চায় ক্যান্সারে আক্রান্ত জেসমিন

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপশি খেলাধূলা সহ কো-কারিকুলাম কর্মসূচির মাধ্যমে সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে হবে

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে দুই হত্যা মামলায় দেবিদ্বারে ইউপি চেয়ারম্যান মুকুল গ্রেফতার

১০

পটুয়াখালীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

১১

র‍্যাব ১৫ এর অভিযানে পেটের ভিতরে থাকা বিপুল পরিমাণে ইয়াবা উদ্ধার,আটক ৪ রোহিঙ্গা নাগরিক

১২

সাভারে সম্মিলিত তরুণ সমাজের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ব্লাড গ্রুপিং অনুষ্ঠিত

১৩

মাদারীপুর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমান কম্পিউটার প্রশিক্ষন কোর্সের উদ্বোধন

১৪

চিরকুটে অভিযোগ, মানববন্ধনে প্রতিবাদ, রায়গঞ্জে শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘিরে নতুন প্রশ্ন

১৫

ফুলবাড়ীতে ব্র্যাক সিডের কর্মশালা অনুষ্ঠিত

১৬

শ্রীপুরে প্রবাসীর বাড়ি দখলের চেষ্টা: সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

১৭

ধনবাড়ীতে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

১৮

ধনবাড়ীতে নবাগত সহকারী কমিশনার ভূমি দিল আফরোজ’র যোগদান

১৯

শ্রীপুর পৌরসভার অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি, দুই শতাধিক পরিবার পানি বন্ধি

২০