
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌরসভার নুরপুর ও বলদিপাড়া এলাকার শতাধিক স্কুল পড়ুয়া ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা বাশের সাঁকো।
বাসা থেকে অর্ধ কিলোমিটার স্কুলের দুরুত্ব হলেও ব্রীজের অভাবে পায়ে হেঁটে প্রায় তিন কিলোমিটার ঘুরে স্কুলে আসতে হয় এসকল ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের। এতে করে স্কুলে যেতে সময় বেশী লাগে শরীরে অনেক প্রেসানী হওয়ায় স্কুলে এসে ক্লান্তিতে পড়ে যায় শিক্ষার্থীরা। যে কারণে ওই এলাকার শিক্ষার্থীরা এই মরন ফাঁদ সাঁকো দিয়ে বাধ্য হয়ে যাতায়াত করেন। এলাকাবাসী নিজেদের চেষ্টায় বুড়ি তিস্তা নদীর উপর বাশের সাঁকোটি তৈরি করেন। সাঁকোটি ভেঙ্গে যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে দূর্ঘটনা। যাতায়াতের জন্য স্থায়ীভাবে একটি ব্রীজ তৈরির দাবী জানান এলাকাবাসী।
জানা যায়, উলিপুরে পৌরসভা হওয়ার আগে বলদি পাড়া, মৌলভী পাড়া, জোনাই ডাঙ্গা গ্রাম গুলো গুনাইগাছ ও ধামশ্রেনী ইউনিয়নের অর্ন্তগত ছিল। বর্তমানে বাশের সাঁকো থাকা নুরপুর ও বলদীপাড়া নামক এলাকাটি পোৗরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডভুক্ত হলেও পৌর উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। উলিপুর পৌরসভা ১৯৯৮ সালে গঠিত হয় এবং ২০২২ সালে প্রথম শ্রেনীতে উন্নিত হলেও পৌরসেবা ও সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকার দাবী এলাকাবাসীর।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, উলিপুর পৌরসভার বলদীপাড়া ও নুরপুর এলাকা দিয়ে বুড়িতিস্তা নদীর ক্যানেল খনন করায় ক্যানেলের পূর্বে ও পশ্চিম দিকের তিন গ্রামের প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ওই এলাকার মানুষজন বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার রাস্তার পরিবর্তে ৩ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে গন্তব্য স্থলে পৌঁছাতে হয়। এ ভোগান্তি নিরসনে এলাকাবাসী নিজের চেষ্টায় অস্থায়ীভাবে বাশের সাঁকো তৈরি করে দেন। যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে দূর্ঘটনা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাঁকো দিয়ে চলা শিক্ষার্থী, নারী, শিশু, রোগী ও বৃদ্ধ মানুষেরা। এ দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেতে জণ প্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো ফল পাননি এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, বাশের সাঁকোর পূর্ব ও পশ্চিমে তিনটি গ্রামের প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষ এ ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে চলাচল করে। এছাড়া হযরত ফাতিমা (রাঃ) পৌর বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ, নুরপুর সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তেতুলতলা নুরানি ও হাফেজি মাদ্রাসার শতাধিক শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাশের সাঁকো পাড় হয়। যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে দূর্ঘটনা। স্থায়ী ভাবে ব্রীজ দেয়ার জোর দাবী জানান তিনি।
নুরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেনীর শিক্ষার্থী সামিউল ইসলাম বলেন, স্কুল গেলেই বুড়ি তিস্তা খালের উপর বাশের সাঁকো পাড় হতে হয়। তাও ভাঙ্গা সাঁকো ভয় ভয় করে কোন রকমে পাড় হই। এখানে একটা পুল (ব্রীজ) হলে আমাদের অনেক সুবিধা হত।
হজরত ফাতিমা (রাঃ) পৌর বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতি আক্তার বলেন, বাড়ির কাছাকাছি স্কুলে যেতে আধা কিলোমিটার রাস্তা ঝুঁকিপূর্ণ বাশের সাঁকো দিয়ে পায়ে হেঁটে যেতে হয়। সাঁকো দিয়ে হেঁটে যেতে অনেক ভয় হয় কখন ভেঙে পানিতে পড়ে যায়। যোগাযোগের ব্যাবস্থা না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা বাদ দিয়েছে। পাড়াপাড়ের জন্য স্থায়ীভাবে ব্রীজ নির্মাণের জোর দাবী জানান এ শিক্ষার্থী।
বলদী পাড়া গ্রামের শিক্ষার্থী অবিভাবক জহুরুল মিয়া সাঁকো পার হয়ে বলেন, ব্রীজের অভাবে রাস্তাটা ব্যবহার করতে পারি না। বাড়ী থেকে শহর যেতে ১৫ মিনিটের পথ। ঘুরে যেতে লাগে এক ঘন্টা। আমাদের ছেলে মেয়েরা জীবন হাতে নিয়ে ভাঙ্গা সাঁকো দিয়ে স্কুলে যাওয়া আসা করে। তাদের নিয়ে সব সময় চিন্তায় থাকি কখন কোন দুঘর্টনা হয়। তিন গ্রামে রোগি পরিবহনে এ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ারের গাড়ী ঢুকতে পারে না। ঢুকলেও কয়েক কিলোমিটার ঘুরে আসতে হয়। আমরা তিন গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার পৌরবাসী হলেও সব ধরনের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
হযরত ফাতিমা (রাঃ) স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হাফিজ রুহুল আমীন বলেন, ওই তিন গ্রাম থেকে প্রায় শতাধিক শিক্ষাথী আমার প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করতে আসে। কিন্ত তাদের যাতায়াতের রাস্তায় বুড়িতিস্তার উপর ব্রীজ না থাকায় শিক্ষাথীদের মরই ফাঁদ বাশের ভাঙ্গা সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আসতে হয়। অথবা তিন কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে আসতে হয়। যাতে খুব সহজে শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানে আসতে পারে সে জন্য বুড়িতিস্তা ক্যানেলের উপর ব্রীজ নির্মানের জোর দাবী জানান।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস ফাতিমা তোকদার বলেন, আমার স্কুলের অনেক শিক্ষার্থী ওই পার থেকে আসে। ব্রীজ না থাকার শিশু শিক্ষার্থীদের আসা যাওয়ার অনেক সমস্যা হচ্ছে, ব্রীজটা হলে সুবিধা হবে।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ওই স্থানে বুড়িতিস্তার উপর ব্রীজ নির্মানের পরিকল্পনা রয়েছে। টাকা বরাদ্ধ না থাকায় ব্রীজটি নির্মান করা যাচ্ছে না। বরাদ্ধ পেলে রাস্তাটি সহ ব্রীজ নির্মান করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক এ,টি,এম, আরিফ বলেন. আমি সদ্য যোগদান করেছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।