
আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: পূর্বে বি. বাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, কুমিল্লার হোমনা, উত্তরে নরসিংদী সদর ও মাধবদী এলাকা, পশ্চিমে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার এবং দক্ষিণে বয়ে যাওয়া বিস্তৃত মেঘনা নদী। এরই মধ্যে অবস্থিত আড়াইহাজার উপজেলার দূর্গম চরাঞ্চল কারাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন।
ইউনিয়নের লোকজন বেশির ভাগ পেশায় মৎস্যজীবি এবং কৃষক। যারা মৎস্যজীবি তারা সকাল বেলা দল বেঁধে নৌকা আর জাল নিয়ে বের হন নদী থেকে মাছ আহরণের জন্য। সাড়া দিন নদীতে জাল বেয়ে মাছ আহরণ করে বিভিন্ন হাটবাজারে এবং পাইকারদের কাছে বিক্রি করে রাতে ঘরে ফিরেন।
যারা কৃষি কাজ করেন তারা চরের জমিনে ফসল ফলানোর কাজ করেন। এলাকার প্রধান ফসল ধান ,পাট, গম, ভুট্টা, মটরশুটি, কলাই, সরিষা ইত্যাদি।
ইউনিয়নটি মেঘনার ভাঙ্গণ কবলিত। ইতি মধ্যেই এ ইউনিয়নের চরলক্ষীপুর নামে একটি গ্রাম মেঘনার ভাঙ্গণে বিলিন হয়ে গেছে। ওই গ্রামে একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল, মেঘনার ভাঙ্গণে তাও নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।ভাঙ্গণের কবলে রয়েছে আরো ৯টি গ্রাম।
এ এলাকা বেশ কয়েকজন নামকরা শিক্ষিত ব্যাক্তির জন্ম স্থান হলেও এলাকায় শিক্ষার হার খুবই নগন্য। ছেলেরা কৈশোরকাল থেকেই বাপ দাদাদের সঙ্গে নদীতে নৌকা নিয়ে মাছ আহরণের কাজ অথবা কৃষি ক্ষেত্রে কাজ করার কারণে লেখাপড়া তেমন একটা হয়ে উঠেনা। তবে যারা লেখা পড়া করার সুযোগ পাচ্ছেন তারা ভাল ভাল পর্যায়ে চলে যাচ্ছেন এবং অবস্থান করছেন।
কালাপাহাড়িয়া এলাকায় একটি উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং একটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র রয়েছে। তবে এলাকাটি মেঘনা বক্ষে হওয়ায় এবং চারি দিকে বৃহত্তর মেঘনা বয়ে যাওয়ায় উপজেলার মূল ভূ-খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। তাই সেখানে অপরাধ প্রবণতাও তুলনামূলক ভাবে বেশি।
এলাকার সচেতন নাগরিক হিসেবে ওই এলাকার মুহিতুল ইসলাম হিরু বলেন, নদী বেষ্টিত হওয়ায় কালাপাহাড়িয়াবাসি সরকারী বেসরকারী অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকে। নৌকা ছাড়া এ ইউনিয়নবাসির ঘর থেকে বের হওয়ার পর দূরের কোথাও যাওয়ার মত কোন যোগাযোগ ব্যবস্থা নাই।তবে এলাকার লোকজন খুবই সহজ সরল বিধায় এ বিষয়ে কারো কোন প্রকার অভিযোগ নাই।
আড়াইহাজার থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন জানান, কালাপাহাড়িয়ার আইন শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়নের লক্ষ্যে সেখানে একটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র রয়েছে। আইন শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশ সেখানে সর্বদা কাজ করছে।
কালাপাহাড়িয়া উপ স্বাস্ত্য কেন্দ্রে দায়িত্বরত বেনজীর আহাম্মেদ বলেন, উপস্বাস্ত্য কেন্দ্র থাকায় কালাপাহাড়িয়াবাসি চিকিৎসা ক্ষেত্রে অনেকটা সুবিধা পাচ্ছে।