
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, এ দেশটাকে নতুন করে গরতে হবে। এ দেশটাকে রক্ষা করতে হবে। খাল খনন এটা একটা বিপ্লব, এটা একটা আন্দোলন। এই বিপ্লব এবং আন্দোলনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তার জীবদ্দশায় তীক্ষè দৃষ্টির চিন্তা শক্তি খেকে খাল কখন কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন। এটা কোন সৌন্দর্য বর্ধনের কর্মসূচি খাল খননের কর্মসূচি না।
এই খাল খনন কর্মসূচি থেকে কি কি সুবিধা জনগণ নিতে পারে, কি কি উপকার পায়, এই চিন্তা ধারণা থেকে খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এই চৌক্কার খাল খননে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিজে এসেছিলেন এবং স্বেচ্ছা শ্রমের মাধ্যমে সবাইকে একত্রিত করে নিজে কোদাল হাতে খাল খনন করেছেন এবং মাটি কেটেছেন।
সোমবার (২ মার্চ) দুপুর ১২ টায় গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার দক্ষিণ ভাংনাহাটী (ছাপিলাপাড়া) এলাকার চৌক্কার খাল পরিদর্শনে শেষে খালের পাশের মাঠে শ্রীপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে সুধি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, উনার চিন্তা ছিল যখন এই খালটা খনন হবে খালের দুই পারে গাছ থাকবে, খালের পানির মধ্যে মাছ থাকবে, মাছের চাষ হবে, এ পানি দিয়ে পাশের খেতে সেচের মাধ্যমে পানি দিয়ে কৃষকেরা চাষাবাদ করবে এবং উৎপাদন দ্বিগুণ হবে। জলাবদ্ধতাও দূর হবে এবং জলাবদ্ধতার কারণে যেন কোন অসুখ-বিসুখ না হয়, মাছের বাজার এবং ফলের বাজার যেন স্থিতিশীল থাকে এসব চিন্তা চেতনার এবং ধারণা থেকে প্রেসিডেন্ট জিয়া তখন খাল খন কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন। ওই সময় তাই হয়েছিল। আপনারা দেখবেন খালের মধ্যে বাঁধ দিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল মাছ চাষ করে। আবার আরো কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি আছে তারা খাল দখল করে বাড়িঘর তৈরি করে। মার্কেট করে। সরকারের দৃশ্যমান কাজের অংশ হিসেবে সারাদেশে এক হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচী হাতে নিয়েছে সরকার। দ্রুতই এ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি ছিল আমরা পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যেই খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছি। এখানে পরিবেশ আন্দোলনের কমিটি দীর্ঘদিন ধরে এই আন্দোলনের সাথে জড়িত আছেন। তারা আমাদেরকে একটি চিঠিও দিয়েছে। তাদের দাবি এবং জনগণের দাবি অনুযায়ী আমরা এই চৌক্কার খাল পুনঃখননের ব্যবস্থা করে ফেলেছি। কিছু বধা আসবে, এ বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করেই আমাদের এই কাজটাকে চালিয়ে যেতে হবে এবং এটাকে আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে।
তিনি আরো বলেন, খাল খনন কর্মসূচির পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি আছে। বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি এটা আমাদের বিপ্লবের একটা অংশ। ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করে সারা বাংলাদেশে প্রায় ১৫’শ কোটি টাকার কৃষি ঋণ মুওকুফ করা হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি নির্ভর এলাকা। কৃষি আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ এবং কৃষি আমাদের অর্থনীতির মূল চাবিকাঠি।
সূধী সমাবেশ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সরকার গঠনের পর দৃশ্যমান কিছু কাজ শুরু করেছি। ইতিমধ্যে দেশবাসী অবহিত, চোখের সামনে সবকিছু দৃশ্যমান বাস্তবে কাজগুলো এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি। আমাদের লক্ষ্য সাধারণ মানুষের পাশে থেকে এই দেশটাকে সামনের দিকে নতুনভাবে গড়া, নতুনভাবে নির্মাণ করার কাজ শুরু করেছি। বিভিন্ন শিল্প ও কল-কারখানাতো ভেঙ্গে দেয়া যাবে না, বন্ধ করে দেয়া যাবে না। তবে পরিকল্পিত শিল্প কলকারখানা এবং পরিকল্পিতভাবে বর্জ্যগুলো দুর হয়, বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য এরকম নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা। আমাদের পরিকল্পনায় আছে। সেই দায়িত্বটুকু নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি এবং নতুনভাবে আমরা যে কাজে আসলাম সেটি হল খাল পুন:খনন খনন। এই চৌক্কার খালের দু’পাশে কয়েক শিল্প কারখানা আছে, সাধারণ মানুষের বাড়িঘর আছে সবকিছু মিলে এখানে যাতে পানির প্রবাহ ঠিক থাকে সাধারণ মানুষ আমরা যেন উপকার পাই সেইজন্য পুন:খননের প্রস্তুতি নিয়েছি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব খোন্দকার আজিম আহমেদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো: এনায়েত উল্লাহ, তত্ত¦াবধায়ক প্রকৌশলী মো: আইনুল হক, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আলম হোসেন, শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ।
শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আব্দুল মোতালেবের সভাপতিত্বে এবং শ্রীপুর পৌর বিএনপির সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন বেপারীর সঞ্চালনায় সূধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডাঃ এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব ড. ব্যারিস্টার ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী, শ্রীপুর পৌর বিএনপির আহবায়ক হুমায়ুন কবির সরকার, খায়রুল কবির মন্ডল আজাদ প্রমুখ।