
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এক বাস যাত্রী থেকে লাখ টাকা ছিনতাই করে পালানোর সময় স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে আন্তঃজেলা ছিনতাই চক্রের দুই সদস্য কে গনপিটুনি দিয়ে থানায় সোপর্দ করেছে।
রবিবার ( ৮ মার্চ) দুপুরে মিরসরাই পৌর সদর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মিরসরাই উপজেলার ৫ নং ওচমানপুর ইউনিয়নের জহুরুল হক প্রবাসী আত্মীয় লিটনের পাঠানো ঈদের কেনাকাটার ১ লাখ টাকা তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার নিশু কে দেয়ার জন্য
বারৈয়ারহাট থেকে বাস যোগে মিরসরাইয়ের উদ্দেশে রওনা হন।
জহুরুল হকের সাথে টাকা থাকার বিষয়টি আঁচ করতে পেরে সঙ্গবদ্ধ ছিনতাই চক্রের ৫ সদস্য তার পিছু নেয়। তারা জহুরুল হকের সাথে বাস যাত্রী হয়ে মিরসরাই চলে আসে। জহুরুল হক মিরসরাই বাস স্টেশনে বাস থেকে নামার সময় কৃত্রিম ভিড় সৃষ্টি করে কৌশলে পকেট থেকে টাকা নিয়ে সটকে পড়ার চেষ্টা করে। এসময় জহুরুল হক টের পেয়ে শোর চিৎকার শুরু করলে বাস যাত্রী ও স্থানীয়রা ছিনতাই চক্রের সদস্যদের ধাওয়া দেয়। এতে টাকা নিয়ে ৩ ছিনতাইকারী সটকে পড়তে পারলেও জনতার হাতে ধরা পড়ে গনপিটুনির শিকার হয় দুই ছিনতাইকারী।
আটককৃত আন্তঃজেলা ছিনতাই চক্রের সদস্যরা হলেন, চট্টগ্রামের খুলশী থানার ২নং গেইট ৩৬ নং রোডের আলফালাগলির ৬ নম্বর বাসার মৃত বেলালের ছেলে মোঃ রাজু আহমেদ (২৬) ও ময়মনসিংহ জেলার কোতয়ালী থানার কতোয়ালি পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড গোল পুকুর পাড় জুয়েল মিয়া বাড়ির মৃত আবুল কালামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম জিসান (৪০)। আটককৃত দুই ছিনতাইকারীদের সহায়তায় মিরসরাই থানা পুলিশ ও সাংবাদিক আশরাফের তত্ত্বাবধায়নে ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে ছিনতাই কৃত টাকা বিকাশের মাধ্যমে উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, আন্তঃজেলা ছিনতাই চক্রের এই চক্রটি গত কয়েক বছর যাবৎ মিরসরাইয়ের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসা নিয়ে ধারাবাহিক অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে । তারা স্থানীয় সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায়, তাদের দেয়া তথ্য ও পরামর্শ মোতাবেক উপজেলা জুড়ে মোটরসাইকেল, সিএনজি, অটোরিকশা, গরু, ছাগল, দোকান-ঘরবাড়ি- অফিসে চুরি করে আসছে। এছাড়া মহাসড়কে ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদক কারবারি সাথেও তারা জড়িত। তাদেরকে বেশ কয়েকটি ঘটনায় মিরসরাইয়ের বিভিন্ন বাজারে আটক করা হলেও ভুক্তভোগীরা মামলা না করায় তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। গনপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হলেও থানায় নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয় তাদের।
মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ফরিদা ইয়াসমিন জানান, মিরসরাই থানায় তিনি যুক্ত হওয়ার পর থেকে অপরাধ প্রবণতা কমানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীরা মামলা না করায় তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা সম্ভব হয়না। ১ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ভুক্তভোগীকে মামলা করার জন্য অনুরোধ করা হলেও তারা মামলা করতে আগ্রহী নয়।