
সরিষাবাড়ী প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে এক গৃহবধূকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করে কৌশলে তালাক দিয়েছেন এমন অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকদের বিরুদ্ধে। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে গত ৪দিন ধরে উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় নির্যাতিতা’র ‘মা’ বাদী হয়ে সরিষাবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ধনবাড়ী উপজেলার বাশঁনাগী গ্রামের আসাদুজ্জামান এর ছেলে আবদুল্লাহ আল-কাফির সাথে সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের পঞ্চমানন্দপুর গ্রামের শাহীনুর ইসলাম দুদু’র মেয়ের ৩ বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।
সাংসারিক বিষয় নিয়ে উভয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এর জেরে ওই গৃহবধূকে বিভিন্ন সময় তার স্বামী আবদুল্লাহ আল-কাফিসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন দফায় দফায় নির্যাতন করতেন। নির্যাতন সইতে না পেরে সে বাবার বাড়ি চলে আসে। হটাৎ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কৌশলে তালাক চিঠি পাঠিয়ে দেয় স্বামী আবদুল্লাহ আল-কাফি।
এই সংবাদে মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন ঐ গৃহবধূ। পরে চিকিৎসার জন্য সরিষাবাড়ী হাসপাতালে ভর্তি করেন তার মা। পরবর্তীতে গৃহবধূর মা সুর্মি আক্তার বাদী হয়ে- আবদুল্লাহ আল-কাফি, তার বাবা আসাদুজ্জামান, তার মা শেফালি আক্তার ও তার বোন আশা আক্তার’কে অভিযুক্ত করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে সরিষাবাড়ী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই গৃহবধূ অভিযোগ করে বলেন, ‘পারিবারিক ভাবে নগদ দুইলক্ষ টাকা একটি মোটর সাইকেল ও ৩ ভরি সোনা দিয়ে তার কাছে বিয়ে হলেও বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য নির্যাতন করতো। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
গৃহবধূর মা সুর্মি আক্তার বলেন, ‘ আমার মেয়েকে অন্যভাবে নির্যাতন ও তালাক দিয়েছে। বিচারের জন্য আইনি সহায়তা গ্রহণ করেছি।
অভিযুক্ত স্বামী আবদুল্লাহ আল-কাফি বলেন, ‘সে আমার কথা অবাধ্য হয়ে চলে। আমাকে ঐ পরিবারের লোকজন অনেক ছোট করেছে। তার সাথে আমি আর সংসার করবো না। কোর্ট থেকে তাকে ডিভোর্স পাঠিয়েছি। তার দেনা-পাওনা আমি বুঝিয়ে দিয়ে দিবো।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মোঃ বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।