
দিনাজপুর প্রতিনিধি : পানি সম্পদ মন্ত্রী মোঃ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, দেশব্যাপী খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার সফল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অংশ হিসেবে আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুর কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া এলাকায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে খাল পুনঃখননের মাধ্যমে দেশে প্রথম এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার দুপুরে দিনাজপুর কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়ায় খাল পরিদর্শন শেষে ৮ মার্চ রোববার বিকাল সাড়ে ৩ টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় তিনি তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
পানি সম্পদ মন্ত্রী মোঃ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দেশে খাল খননের মাধ্যমে জনগনের দাবি অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মসূচি সম্পন্ন এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষা ও অধিক কৃষি ফলনের লক্ষ্যে পরিত্যক্ত জলাশয় এবং ছোট বড় নদ নদী গুলো খনন কাজের উদ্যোগ নিয়ে ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের জনকল্যাণ এবং জলবায়ু প্রবাহ রোধে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর, খাল খননের বিষয় গুরুত্ব আরোপ করেছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পণঃ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।আমরা পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান নির্দেশে খাল খনন কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাব।এজন্য আমরা দেশের মধ্যে পরিত্যক্ত খাল ও নদ-নদী গুলো আনন্দের জন্য গুরুত্ব দিয়েছি।
খাল খননের মাধ্যমে পানি ধরে রাখতে পারলে, দেশের সব এলাকার মানুষ প্রধানত সহজে সেচ সুবিধা পাবে। সব ধরনের ফসল চাষ ও উৎপাদনে উপকার হবে। বিশেষ করে,খালটি পুনঃখননের মাধ্যেেম এ অঞ্চলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর হবে। খালের পানি সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষি জমিতে পৌঁছাতে পারলে কৃষি উৎপাদন উল্লেখ যোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি ব্যক্ত করেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব ড, একেএম সাহাবুদ্দিন তার প্রদত্ত তথ্যে খাল খননটির গুরুত্ব উল্লেখ করে বলেন,এটি জনঃ গুরুত্বপূর্ণ খাল হিসেবে বিবেচিত করে সরকার খননের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। “ক্লাইমেট স্মাট এগ্রিকালচার এন্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় দিনাজপুর ঢেপা-পূনর্ভবা পানি ব্যবস্থাপনা শীর্ষক উপ প্রকল্পের অধীন সাহাপাড়া খাল ১২ দশমিক ২০০ কিঃমিঃ পুনঃখনন কাজ করা হবে।”
তিনি বলেন,দীর্ঘদিন যাবত খালটি খনন না করার ফলে পলিপড়ে ভরাট হয়ে গেছে।এছাড়া উজান থেকে পানি প্রবাহ না থাকায়,শুষ্ক মৌশুমে খালটি প্রায় সম্পূর্ণরূপে শুকিয়ে যায়।খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে শুষ্ক মৌসুমে কৃষকগণ সেচের পানি পায় না।পানি ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জলবদ্ধতার ফলে আবাদী জমির ফসল নষ্ট হয়ে যায়।খালটি খনন হলে সহজে সেচ সুবিধার মাধ্যমে এই এলাকার কৃষকেরা উপকৃত হবে।
তিনি বলেন, জেলার কাহারোল ও বীরগঞ্জ দু’টি উপজেলার প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় আমন ধানের জলবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাবে। ফলে ৬০ হাজার মেট্রিক টন ধান বিনষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পাবে।প্রায় ১২০০ হেক্টর জমির ভু-উপরিস্থ পানি সম্পূরক সেচ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।ফলে ভূ-গর্ভস্থলে পানি ব্যবহার কমে যাবে। খালের উভয় পাশে প্রায় ৭ হাজার বৃক্ষ রোপন করা হবে।সামগ্রিক পরিবেশের উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।খালটি খনন হলে মৎস্য ও জল সম্পদ বৃদ্ধি এবং দারিদ্র বিমোচন ও খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
রোববার বিকেল সাড়ে ৩ টায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিনাজপুর আগমন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে দিনাজপুর-১ আসনে সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম, ২-আসনের সংসদ সদস্য সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলমসহ জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও জেলার সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।