
আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি: আশুলিয়ায় ‘তাহফিযুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদ্রাসা’ নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল গফুর মিয়ার লোকজন ও তাতিদল নেতা জাকির হোসেনের নেতৃত্বে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
সোমবার সকালে আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে এ হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর সদস্যরা। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় ছাত্র ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ভয়ে পাশের কক্ষে আশ্রয় নেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ধর্মীয় শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে যে ন্যাক্কারজনক হামলা করা হয়েছে তা মোটেও ঠিক হয়নি। আমরা এধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।
প্রতিষ্ঠানটির উপ-পরিচালক(প্রশাসন) সৈয়দ সানজিদ বলেন, আশুলিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুর মিয়ার লোকজন ও ঢাকা জেলা তাতী দলের সভাপতি জাকির হোসেনের নেতৃত্বে চাঁদার দাবীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে হামলা চালানো হয় ও মাদ্রাসার আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়। এঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন।
তবে এবিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা আব্দুল গফুর মিয়া বলেন, আমি দুদিন ধরে আশুলিয়া য়াইনি, ঢাকায় আছি। এছাড়া ৬ মাসের মধ্যে ওই মাদ্রাসায় আমি যাইনি। যদি গিয়ে থাকি তাহলে কেউ যদি প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে আমি নিজের বিচার নিজেই করবো।
এরপরে ঢাকা জেলা তাতীদলের সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, আমি যে ভাংচুর করেছি তার প্রমাণ কি, তাদের প্রমাণ দেখাতে বলেন। ঘটনা যখন ঘটে তখন আমি সৈয়দ আশরাফের ভাতিজার সাথে। গ্যানজাম হয়েছে ওদের পক্ষ ও বাইরের সাথে তা আমি জানি না। তাহলে আমি ঘটনার সাথে কিভাবে জড়িত ছিলাম বলেন। প্রশাসনের একজন আমাকে বললো আপনি এখান থেকে সরে যান, কেউ যদি আপনার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেয় তাহলে ধরতে পারে। তাই সরে গেছি, তাহলে সরে আসা কি, আমি ওটা করেছি। আর যদি ওটা আমি করতাম তাহলেতো আমি আড়ালে থাকতাম।
এবিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসী) রুবেল হাওলাদার বলেন, এঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ হয়নি, তবে তদন্ত করে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।