
গাজীপুরের কাপাসিয়ার টোক ইউনিয়নের ডুমদিয়া গ্রামের খদোর টেক নামক স্থানে গতকাল মঙ্গলবার সকালে হিরন মিয়ার (৩০) রহস্যময় মৃত্যু হয়েছে। তিনি পাশ্ববর্তী বড়দিয়া গ্রামের কৃষক হারিছ মিয়ার ছেলে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় হিরন মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করেছে।
নিহতের পিতা হারিছ মিয়া জানান, তার ছেলের সাথে ডুমদিয়া গ্রামের মানিক মিয়ার মেয়ে কুলসুম বেগমের প্রায় ৮ বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। কিছুদিন যাবত কুলসুম ছেলে দুটিকে নিয়ে বাপের বাড়ি অবস্থান করছে।
গতকাল সকাল ৭টার দিকে হিরনের শ্বশুর বাড়িতে গেলে কুলসুম তাকে ফোনে তার ছেলেকে সেখান থেকে নিয়ে আসতে বলে। অন্যথায় তাকে আগুন লাগিয়ে পুড়ে ফেলার হুমকি দিয়ে ফোন রেখে দেয়। এর বেশ কিছুক্ষণ পরে তিনি হিরন মিয়ার মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বজনদের নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি দাবি করেন, তার ছেলেকে শ্বশুর, শাশুড়ী ও ছেলের বউ মেরে ফেলে গাছের সাথে ঝুলিয়ে দিয়েছে। তাই এ হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন তিনি।
এলাকাবাসী জানান, কুলসুম বেগম সম্প্রতি স্থানীয় বীরউজুলী বাজারে একটি খাবার হোটেলে কাজের সুবাদে এক যুবকের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে তাকে বিয়ে করেন। এ নিয়ে হিরনের সাথে কিছুদিন যাবত কুলসুম ও তার পরিবারের লোকজনের ঝগড়াঝাটি চলছিল। এ ঘটনায় সে নিজে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করতে পারে অথবা তাকে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হতে পারে। একটি নির্জন টেকে ঘটনাটি ঘটায় এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা, সে বিষয়ে এখনো তারা নিশ্চিত নন। বিষয়টি ঘিরে এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
খবর পেয়ে টোক তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এস আই রফিকের নেতৃত্বে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
কাপাসিয়া থানার ওসি মো.শাহীনুর আলম জানান, সুরতহালকালে তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া যাবে। এর আগেও হিরন মিয়া আত্মহত্যার পদক্ষেপ নিয়েছে বলে এলাকাবাসী নিশ্চিত করায় আপাতত একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।