
দিনাজপুর প্রতিনিধি : মহিলা-শিশু ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এজেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন,১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন। যারা সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ১৯৭২ সালের সংবিধানকে অস্বীকার করতে চায়, তারা মূলত একাত্তরের পরাজিত শক্তি।
৪ এপ্রিল ২০২৬ শনিবার দুপুর দু’টায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয় আয়োজিত এতিমখানা ও আশ্রমে ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট-এর চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী তার বক্তব্যে এসব বলেন।
ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, “যারা ৭২-এর সংবিধানকে ছুড়ে ফেলতে চায়, তারা সেই সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী ছিল। তাই মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস তাদের কাছে অস্বস্তিকর।”
তিনি বলেন, বিএনপি যেমন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে স্মরণ করে, তেমনি ১৯৭৫, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। স্বৈরাচার বিরোধী বিগত ১৭ বছরের আন্দোলনে দেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছে, বিএনপি সেটিকে গুরুত্ব দেয়। সে কারণেই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি নিয়মতান্ত্রিক ভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি চেয়ারম্যান বর্তমান প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকারে এসে দলটি সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথেই এগিয়ে যাচ্ছে। বিএনপির কোন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দল নয়, আমরা জনগণের কল্যাণে ও দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি এবং আগামী দিনে কাজ করে যাব।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে পিছু হটেননি, বরং অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জনের পর ব্যারাকে ফিরে গিয়ে ছিলেন। একই ভাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন, কোন আপস করেননি।তিনি দেশে থেকেই জনগণকে সাথে নিয়ে দেশ রক্ষায় জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কাজ করে গেছেন।
তিনি বলেন, “অনেকে আপস করেছে, ইতিহাসে অনেক বিশ্বাসঘাতকতার ঘটনাও আছে। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে কারা তৎকালীন স্বৈরশাসককে বৈধতা দেওয়ার জন্য নির্বাচনে গিয়েছিল, সেটি দেশের মানুষ জানে। তবে আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের নাম নিতে চাই না।”
জাতীয় সনদ প্রসঙ্গে ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, বিএনপি জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জাতীয় সনদকে একটি জাতীয় দলিল হিসেবে দেখে এবং সেটিকে সম্মান করে।
তিনি বলেন, “বিএনপি জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করবে। একই সঙ্গে নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতেও যা বলা হয়েছে, তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে। তবে বিএনপি নিয়ম-নীতির ভিত্তিতে এগোতে চায়। রাষ্ট্র পরিচালনা আবেগ দিয়ে হয় না; রাষ্ট্র পরিচালনা হয় নিয়ম, নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে।”
জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন, জাতীয় সংসদের হুইপ মোঃ আখতারুজ্জায়া মিয়া এমপি, দিনাজপুর- ২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, পুলিশ সুপার মোঃ জেদান আল মুসা, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আসিফ ফেরদৌস, দিনাজপুর চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ সভাপতি মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক সহ প্রমুখ।
দিনাজপুর সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আব্দুল মতিন জানান, জেলায় অবস্থিত মোট ১০৬টি প্রতিষ্ঠানের মাঝে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হতে ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার চেক আজ শনিবার বিতরণ করা হয়।চেক প্রাপ্তদের মধ্যে ১০৪টি এতিমখানা এবং ২টি সনাতন হিন্দু ধর্মীয় আশ্রম রয়েছে।বিতরণ কৃত অর্থে ৩ হাজার ২৪ জন শিশু এবং সনাতন ধর্মীয় আশ্রমে অবস্থিত ২৪ জনের খাবারের জন্য প্রদান করা হয়েছে।