
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অ্যান্টার্কটিকার সমুদ্রবরফ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় ব্যাপক সংখ্যক এম্পেরার পেঙ্গুইন বা সম্রাট পেঙ্গুইনের ছানা ডুবে মারা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেসন অব নেচার (আইইউসিএন) প্রজাতিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিপন্ন’ (এন্ডেঞ্জারড) হিসেবে ঘোষণা করেছে।
সম্রাট পেঙ্গুইন বছরের প্রায় ৯ মাস উপকূলের সঙ্গে সংযুক্ত শক্ত সমুদ্রবরফের ওপর নির্ভরশীল। এখানেই তারা ডিম পাড়ে এবং ছানারা জলরোধী পালক গজানো পর্যন্ত বেড়ে ওঠে। কিন্তু বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে ২০১৬ সালের পর থেকে অ্যান্টার্কটিকার সমুদ্রবরফ রেকর্ড পরিমাণ কমে যাচ্ছে।
বরফ আগেভাগে ভেঙে গেলে পুরো কলোনি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে অসংখ্য ছানা ডুবে মারা পড়ে। আর যারা কোনোভাবে বেঁচে থাকে, তারা ভিজে গিয়ে প্রচণ্ড ঠান্ডায় জমে মারা যায়।
২০২২ সালে বেলিংসহাউজেন সাগর অঞ্চলের পাঁচটি পরিচিত প্রজনন কেন্দ্রের মধ্যে চারটিই ধসে পড়ে। এতে হাজার হাজার ছানার মৃত্যু হয়। এর আগে ২০১৬ সালে ওয়েডেল সাগরের একটি বড় কলোনিও একইভাবে ধ্বংস হয়েছিল। গবেষকরা ঘটনাগুলোকে “ভয়াবহ” ও “অত্যন্ত মর্মান্তিক” বলে বর্ণনা করেছেন।
আইইউসিএনের মূল্যায়ন অনুযায়ী, সমুদ্রবরফ হ্রাসের ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৮০ সালের মধ্যে সম্রাট পেঙ্গুইনের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৫ লাখ ৯৫ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক পেঙ্গুইন রয়েছে, যা ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে।
আন্তর্জাতিক পাখি সংরক্ষণ সংস্থা বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী মার্টিন হার্পার বলেন, সম্রাট পেঙ্গুইনকে বিপন্ন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা— জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের চোখের সামনেই বিলুপ্তির ঝুঁকি ত্বরান্বিত করছে। এখনই সরকারগুলোকে কার্বন নিঃসরণ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক জরিপ সংস্থার বিজ্ঞানী পিটার ফ্রেটওয়েল বলেন, এটি সত্যিই এক ভয়াবহ গল্প। এত সুন্দর ছানাগুলোর এভাবে মৃত্যুর কথা ভাবাও কঠিন।
অস্ট্রেলিয়ান অ্যান্টার্কটিক ডিভিশনের গবেষক বারবারা উইনেকে এই ঘটনাকে “অত্যন্ত বেদনাদায়ক” বলে উল্লেখ করেছেন।
একই সঙ্গে আইইউসিএন জানিয়েছে, সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ক্রিলের (ক্ষুদ্র সামুদ্রিক প্রাণী) প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় অ্যান্টার্কটিক ফার সিলের সংখ্যাও ২০০০ সালের পর থেকে অর্ধেকে নেমে এসেছে। এছাড়া বার্ড ফ্লুর প্রভাবে দক্ষিণী এলিফ্যান্ট সিলের বহু নবজাতক মারা যাচ্ছে, যা প্রজাতিটিকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার কমিয়ে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামানোই একমাত্র কার্যকর উপায়। অন্যথায়, শতাব্দীর শেষ নাগাদ অ্যান্টার্কটিকার এই প্রতীকী প্রাণীগুলো বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান